(৭)
ইহার প্রাদুর্ভাব হইলে, এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তি অথবা তৎসম্বন্ধীয় বস্ত্রাদির সংস্রব দ্বারা ইহা অন্যস্থানে যাইতে পারে। ইহার বিশেষ প্রমাণ জন্য আমরা পূর্ব্বোক্ত রুসিয়ারাজ ও তাহার পারিষদগণের বিষয় পুনরায় উল্লেখ করিতে পারি। ইহা হইতে আমারা এই শিক্ষা করিতেছি যে, কোন নগরে বিসূচিকা রোগ ভয়ানক রূপ ধারণ করিলেও তত্রস্থ ব্যক্তিগণ এই রোগাক্রান্ত জনের সামীপ্য ত্যাগ করিয়া বদ্ধ থাকিতে পারিলে নিরাপদে থাকিতে পারে। যেহেতু ইহারা ওলাউঠা রোগীর কোন সংস্রবে থাকে না। এই প্রকৃত বিবরণ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণ হইতেছে যে, ওলাউঠা রোগীর সংসর্গ জন্য এই রোগ এক স্থান হইতে অন্য স্থানে সংক্রমণ করিতে পারে, এবং সেই কারণে উক্ত প্রকার আবদ্ধ হইয়া সামীপ্য ত্যাগ করিতে পারিলে, আমাদিগের এই রোগ প্রাপ্ত হইবার কোন সম্ভাবনা থাকে না।
অনেকে আশ্চর্য্য বোধ করিতে পারেন যে, ওলাউঠারোগীর গৃহে থাকিয়াও এবং তাহার শুশ্রূষাদি করিয়াও আমাদিগের এই রোগ হয় না; এবং আরও বলিতে পারেন যে, যেমন অগ্নি এক স্থানে রাখিলে ক্রমশঃ সমস্ত দিগ ব্যাপিয়া উঠে, এবং যতদূর দাহ্য পদার্থ প্রাপ্ত হয়, ততদূর দগ্ধ করে, তদ্রূপ ওলাউঠা রোগও এক জন হইতে অন্য জনে আবির্ভূত হইতে পারে। ভাল, যদি এই প্রকারই হয়, তবে সকল ব্যক্তিরই এরোগ হয় না কেন? প্রথম রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে যাহারা শুশ্রুষা করিয়াছে, এবং তাহার মৃতদেহ দাহনার্থ যাহারা নদীতীরে লইয়া গিয়াছে, তাহাদিগেরও এই রোগ হইতে পারিত। এবং তৎসংসর্গে তাহাদের বন্ধুবর্গেরও হইত, এরূপে ক্রমশঃ সমস্ত পৃথিবীই ধ্বংস হইয়া যাইত। কিন্তু কি জন্য ইহা এপ্রকার হয় না, তাহা এস্থলে আমাদিগের বিশেষ করিয়া বলিবার আবশ্যক নাই। এ পর্য্যন্ত বলিতে পারি যে, যাহাদিগের এই রোগ হয় তাহাদিগের হইতে অন্যান্য লোকেরও এই রোগ হইতে পারে। কিন্তু সুস্থ শরীরে রোগ নিবারণী শক্তি থাকায় সকলের ঘটে না। যেমন প্রদীপের শিখায়