পাতা:বৃহত্তর তাম্রলিপ্তের ইতিহাস - যুধিষ্ঠির জানা (মালীবুড়ো).pdf/৩

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


নিবেদন॥

তমলুক তথা তাম্রলিপ্তের ইতিহাসের মাল-মসল সংগ্রহের জন্য জীবনের পুরে! দশটি বছর কাটিয়েছি। দশবছর পরে আজ এই ইতিহাস লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে যে, কিছুই সংগ্রহ করতে পারিনি। যেটুকু সংগ্রহ করেছি তা' বিরাট গৌরবদীপ্ত প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বন্দরের পক্ষে নগণ্য। তাম্রলিপ্ত বন্দর সম্পর্কে প্রাচীন পুথি-পত্রে যেরূপ উৎসাহপুর্ণ বর্ণনা পাই, সে তুলনায় তমলুকে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান করে অতি অল্পই আবিস্তৃত হয়েছে। তালুকই সুপ্রাচীন তাম্রলিপ বদর এ সত্য সর্ববাদিসত হলেও তবু মনে প্রশ্ন জাগে আজকের ছোট তমলুক সহরই কি সেই প্রাচীন বিরাট সামুদ্রিক বন্দর তাম্রলিপ্ত

এই পুস্তকে যে সব তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলিই ঈশ্বহুধুম্বভাবে বৈজ্ঞামিক বৃষ্টিভদী দিয়ে যাচাই করে তবেই স্থান দেওয়া। হয়েছে, তাই বলে কোন লোককথা, প্রবাদ বা কিংবদন্তীকে অবহেলা করা। হয়নি। ভাবাবেশ বা উচ্ছাস যতদূর সম্ভব পরিত্যাগ করতে চেষ্টা করেছি। তমলুকের রাজবংশ সম্পর্কে নতুনভাবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বিভিন্ন কপে পরীক্ষা ও অমুসন্ধান করে তবেই লিখেছি। জিফুহরির মন্দির, মহাপ্রভুর মন্দিরঅাই-ফিং, দহন প্রভৃতি বছ বিষয় সম্পর্কে বহুদিন ধরে অসুসন্ধান করে তবেই নিজের মতামত ব্যক্ত করতে সাহসী হয়েছি। বিরলিয়ার গান। বংশেব কোধিনামায় মনেক নতুন তথ্যের ইথিত আছে, সেইসব তথ্য যাচাই করে দেখা ও বিস্তৃতভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। প্রত্নতাত্ত্বিক পরেশ দাশগুপ্ত মহাশয়ের আবিষ্কার অমূল্য সন্দেহ নাই, তবে এ সম্পর্কে পতিমণ্ডলী আরো বিস্তৃতভাবে অ্যালোচনা করলে ভাল হয়। দাশগুপ্ত মহাশয়ের আবিস্তৃত প্রত্নবস্তুর আলোকচিত্র ও আশুতোষ চিত্রশালায় রক্ষিত বস্তুৰ ক্ৰমিক সংখ্যা দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, বিভিন্ন কারণে তা দেওয়া সম্ভব। হলো না॥

তমলুকের জেলা প্রথাগারিক মাননীয় রামরঞ্জন ভট্টাচাৰ্য মহাশয় এই পুস্তক প্রকাশ সম্পর্কে যথেষ্ট উৎসাহ ও সাহায্য করেছেন। বস্তুত এর উৎসাহ না পেলে এবং কলিকাতা পুস্তকালয়ের কর্ণধার মাননীয় প্রস্তুত সণীন্দ্রমোহন চক্রবর্তী মহাশয় অকাতরে অর্থব্যয় না করলে এত শীব্র এরূপ একটি ব্যয়বহুল পুস্তক প্রকাশ কোন মইে সম্ভব হোত না। দৈনিক বসুমতীর সম্পাংক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় ও কলিকাতা বিশ্ববিষ্ঠালয়ের