পাতা:বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বেওয়ারিশ লাস।

৪৯


কিন্তু যদি তিনি ইচ্ছা করিয়া আমাদিগের সহায়তা করেন, তাহা হইলে তাঁহার ভৃত্যগণ তাঁহার নিকট কোন কথা গোপন করিতে পারিবে না, বা যদি কেহ গোপন করে, তাহা হইলে অপরের নিকট হইতেও তাহা প্রকাশ হইয়া পড়িবে। এরূপ অবস্থায় মেহের আলির উপর ক্রোধান্বিত না হইয়া, তাহার মনিবের সহিতই আমার প্রথম দেখা করা কর্ত্তব্য। বিশেষতঃ, আমি বিলক্ষণরূপে অবগত আছি যে, ভাল ভাল ইংরাজগণের নিকট সরকারী কার্য্য উপলক্ষে যদি কোনরূপ সাহায্য প্রার্থনা করা যায়, তাহা হইলে তৎক্ষণাৎ তাঁহারা তাঁহাদের সাধ্যমত সাহায্য প্রদান করিয়া থাকেন।

 মনে মনে এইরূপ ভাবিয়া একজন কর্ম্মচারীকে সেই স্থানে রাখিয়া আমি সেই স্কুলের সর্ব্ব প্রধান সাহেবের উদ্দেশে গমন করিলাম। যে গৃহে সাহেব থাকেন, সেই গৃহের সম্মুখে তাঁহার চাপরাশি বসিয়াছিল। একখানি কার্ডে আমার নাম, আমি কে, এবং কি নিমিত্ত আমি তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে চাহি, তাহা সেই কার্ডে লিখিয়া চাপরাশির হাতে প্রদান করিলাম, ও আমি যে কে, তাহা চাপরাশিকেও বলিয়া দিলাম। চাপরাশি কার্ড লইয়া ভিতরে প্রবেশ করিবার অতি অল্পক্ষণ পরেই, সেই কার্ড হস্তে সাহেব বাহিরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন ও কহিলেন, “আমি আপনাকে কিরূপ সাহায্য করিতে পারি?”

 আমি। আপাততঃ অপর সাহায্যের কিছু প্রয়োজন নাই, কেবলমাত্র আপনার খানসামাকে আমি একবার চাহি। একঘণ্টার নিমিত্ত আমি তাহাকে লইয়া যাইব মাত্র।