পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৮৯
বেতালপঞ্চবিংশতি

হইয়া ধরাশয্যা অবলম্বন করিলে তাহার সখী সবিশেষ জিজ্ঞাসা দ্বারা সমস্ত অবগত হইয়া প্রবোধদানচ্ছলে অনেক ভর্ৎসনা করিল। তখন সে কহিল সখি আমি নিতান্ত অবোধ নহি কিন্তু মন আমার প্রবোধ মানে না। নির্দয় কন্দর্পের নিরন্তর শরপ্রহারে আমি জর্জ্জরিত হইয়াছি। আর যাতনা সহ্য হয় না। যদি সেই চিত্তচোরকে ধরিয়া দিতে পার তাহা হইলেই প্রাণধারণ করিব নতুবা আত্মঘাতিনী হইব।

 ইহা কহিয়া অনঙ্গমঞ্জরী অশ্রুপূর্ণ নয়নে অত্যায়ত নিশ্বাস পরিত্যাগ করিতে লাগিল। তখন তাহার সহচরী কালবিলম্ব অনুচিত বিবেচনা করিয়া কমলাকরের আলয়ে গমনপূর্ব্বক তাহাকেও স্বীয় সহচরীর তুল্যাবস্থ দেখিয়া মনে মনে বিবেচনা করিল দুরাত্মা কন্দর্পের কিছুই অসাধ্য নাই কি স্ত্রী কি পুরুষ সকলকেই সমান রূপে কুসুমময় শরাসনের আজ্ঞাকারী করিতে পারে। অনন্তর সে কমলাকরের নিকট কহিল অর্থদত্তশেঠের কন্যা অনঙ্গমঞ্জরী প্রার্থনা করিতেছে তুমি তাহার প্রাণদান কর। কমলাকর শুনিয়া তৎক্ষণাৎ গাত্রোত্থান করিল এবং কহিল আপাততঃ তুমি এই অমৃতায়মান মনোহর বাক্য দ্বারা আমায় প্রাণদান করিলে।

 পরে সহচরী কমলাকরকে সমভিব্যাহারে লইয়া অনঙ্গমঞ্জরীর আবাসে উপস্থিত হইয়া দেখিল সে প্রাণত্যাগ করি-