পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৭
উপক্রমণিকা।

দেখ যে বারনারী যোগীর আনয়নবিষয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়া গিয়াছিল সে আপন প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করিয়া আসিতেছে। আমি উহার অসম্ভব বুদ্ধিকৌশলে চমৎকৃত হইয়াছি। অধিক কি কহিব এই বুদ্ধিমতী বারবনিতা চিরশুষ্ক নীরস তৰুকে পল্লবিত ও ফল পুষ্পে সুশোভিত করিয়াছে। সামাজিকেরা কহিলেন মহারাজ যথার্থ আজ্ঞা করিতেছেন এ সেই বারাঙ্গনাই বটে।

 রাজা ও সভাসদগণের এইরূপ কথোপকথন শ্রবণে সন্ন্যাসীর সহসা বোধসুধাকরের উদয় হওয়াতে মোহান্ধকার নিরস্ত হইল। তখন তিনি পূর্ব্বাপর পর্য্যালোচনা করিয়া যৎপরোনাস্তি ক্ষোভ প্রাপ্ত হইলেন এবং আপনাকে বারংবার ধিক্কার দিয়া মনে মনে কহিতে লাগিলেন দুরাত্মা চন্দ্রভানু ঐশ্বর্য্যমদে মত্ত ও ধর্ম্মাধর্ম্মজ্ঞানশূন্য হইয়া আমার তপস্যভ্রাংশের নিমিত্ত এই দুর্বিগাহ মায়াজাল বিস্তার করিয়াছিল। আমিও অতি অধম ও অবশেন্দ্রিয় অনায়াসে স্বৈরিণীর মায়ায় মুগ্ধ হইয়া চিরসঞ্চিত কর্ম্মফলে বঞ্চিত হইলাম। অনন্তর ক্রোধে কম্পান্বিতকলেবর হইয়া স্কন্ধস্থিত পুত্ত্রকে ভূতলে নিক্ষেপ করিয়া তৎক্ষণাৎ তথা হইতে প্রস্থান করিলেন এবং অন্য এক অরণ্যের মধ্যে প্রবেশপূর্ব্বক পূর্ব্বাপেক্ষায় সহস্রগুণ মনোযোগ ও অধ্যবসায় সহকারে