পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
২১
উপক্রমণিকা।

আমি ধর্ম্ম সাক্ষী করিয়া প্রতিজ্ঞা করিতেছি আপন জ্ঞান অনুসারে যথার্থ মূল্য নিরূপণ করিয়া দিব। ইহা কহিয়া প্রত্যেক রত্নের লক্ষণ পরীক্ষা করিয়া কহিল মহারাজ বিলক্ষণ বিবেচনা করিয়া দেখিলাম সকল মণিই সর্ব্বাঙ্গসুন্দর কোটি মুদ্রাও একৈকের প্রকৃত মূল্য নহে। এ সকল অমূল্য রত্ন।

 রাজা শুনিয়া অতিশয় হৃষ্ট হইয়া সমুচিত পারিতোষিক প্রদানপূর্ব্বক মণিকারকে বিদায় করিলেন এবং হস্ত দ্বারা সন্ন্যাসীর হস্ত গ্রহণ করিয়া সিংহাসনার্দ্ধে উপবেশন করাইয়া কহিলেন মহাশয় আমার সমস্ত সাম্রাজ্যও আপনকার এক রত্নের তুল্যমূল্য হইবেক না। আপনি সন্ন্যাসী হইয়া এই সকল অমূল্য রত্ন কোথায় পাইলেন এবং কি অভিপ্রায়েই বা আমাকে দিলেন জানিতে ইচ্ছা করি। যোগী কহিলেন মহারাজ মন্ত্রণা ঔষধ গৃহচ্ছিদ্র এ সকল সর্ব্বসমক্ষে ব্যক্ত করা বিধেয় নহে। যদি অনুমতি হয় নির্জনে গিয়া নিবেদন করি। মহারাজ, নীতিজ্ঞেরা কহেন মন্ত্রণা ষট্‌ কর্ণে প্রবিষ্ট হইলে অপ্রকাশিত থাকে না, তাহাতে কার্য্যহানির সম্পূর্ণ সম্ভাবনা। চারি কর্ণে হইলে প্রকাশিত হয় না অথচ কার্য্যসিদ্ধি করে। আর দুই কর্ণের মন্ত্রণা মনুষ্যের কথা দূরে থাকুক ব্রহ্মাও জানিতে পারেন না।

 ইহা শুনিয়া রাজা সন্ন্যাসীকে নির্জনে লইয়া কহিতে