পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৩৪
বেতালপঞ্চবিংশতি

বদনে সদনে প্রত্যাগমনপূর্ব্বক রাজকুমারের নিকটে পূর্ব্বাপর সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণন করিল। তিনি শ্রবণমাত্র অতিমাত্র ব্যাকূল ও হতাশ্বাস হইয়া দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত্যাগপূর্ব্বক পার্শ্ববর্ত্তী প্রিয় বয়স্যের প্রতি কহিতে লাগিলেন সখে এখন কি উপায় করি। নিতান্ত বুঝিলাম বিধি বাম হইয়াছে মনস্কামসিদ্ধির কোন সম্ভাবনা বোধ হইতেছে না। নতুবা সেই বামলোচনা কি নিমিত্ত তিরস্কার করিয়া বৃদ্ধাকে বিদায় করিল। অন্তঃকরণে প্রণয়সঞ্চার থাকিলে দূতীর প্রতি এত অনাদর হয় না। তখন তিনি কহিলেন বয়স্য মর্ম্মগ্রহ না করিয়া কেন অকারণে এত ব্যাকুল হও। শ্রীখণ্ডরসাভিষিক্ত দশ করশাখা প্রহারের তাৎপর্য্য এই যে শুক্ল পক্ষের দশ দিবস অবশিষ্ট আছে তদবসানে অন্ধকার পক্ষে তোমার সহিত সমাগম হইবেক।

 শুক্ল পক্ষ অতিক্রান্ত হইল। বৃদ্ধা পুনর্বায় রাজকুমারীর নিকটে গিয়া কুমারের প্রার্থনা জানাইল। তিনি শুনিয়া অত্যন্ত কোপ প্রকাশ করিলেন এবং গলহস্ত প্রদানপূর্ব্বক বৃদ্ধাকে অন্তঃপুরের খড়ক্কী দিয়া বাহির করিয়া দিলেন। সে তৎক্ষণাৎ রাজকুমারের নিকটে আসিয়া এই বৃত্তান্ত জানাইল। তিনি শুনিয়া নিরাশ্বাস হইয়া দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত্যাগপূর্ব্বক অধোমুখে চিন্তা করিতে লাগিলেন। তখন সর্ব্বাধিকারীর পুত্ত্র কহিলেন বয়স্য কেন উৎকণ্ঠিত হইতেছ আর ভাবনা