পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৪৫
৪৫
বেতালপঞ্চবিংশতি

যথাশাস্ত্র ব্যবস্থা দিবেন। অনন্তর বিজন প্রদেশে আসিয়া সন্ন্যাসীকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন মহাশয় ধর্ম্মশাস্ত্রে দুশ্চরিত্রা স্ত্রীর বিষয়ে কিরূপ দণ্ড নিরূপিত আছে। সন্ন্যাসী কহিলেন মহারাজ ধর্ম্মশাস্ত্রে লিখিত আছে স্ত্রী বালক ও ব্রাহ্মণ ইহারা অভ্যন্ত অপরাধী হইলেও বধাহ নহে রাজা ইহাদের নির্বাসন করিবেন।

তখন রাজা অন্তঃপুরে গিয়া রাজ্ঞীকে কহিলেন পদ্মাবতী অতিদুশ্চরিত্রা এজন্য শাস্ত্রবিধানানুসারে আমি ইহাকে দেশবহিষ্কৃতা করিব। রাজ্ঞী কন্যার প্রতি অত্যন্ত স্নেহবতী ছিলেন কিন্তু পতিব্রতাত্ব প্রযুক্তি রাজার মতেই সম্মতা হইলেন। তদনন্তর নৃপতি কন্যাকে শিবিকারোহণের আদেশ দিয়া তাহার অগোচরে বাহকদিগকে আজ্ঞা দিলেন তোমরা পদ্মাবতীকে কোন অরণ্যানীতে পরিত্যাগ করিয়া ত্বরায় আমাকে সংবাদ দাও। বাহকেরা রাজাজ্ঞা সম্পাদন করিল। অমাত্যপুত্ত্রও তৎক্ষণাৎ রাজকুমারকে সঙ্গে লইয়া রাজকুমারীর উদ্দেশে চলিলেন এবং ইতস্ততঃ অনেক অন্বেষণ করিয়া পরিশেষে সেই অরণ্যে প্রবেশিয়া দেখিলেন পদ্মাবতী একাকিনী বৃক্ষমূলে বসিয়া যুথভ্রষ্টা হরিণীর ন্যায় বিষণ্ণ বদনে রোদন করিতেছেন। পরে অশেষবিধ আশ্বাস প্রদান দ্বারা তাঁহার শোকাবেগ নিবারণ করিয়া সঙ্গে লইয়া উভয়ে স্বদেশাভিমুখে