পাতা:বেতালপঞ্চবিংশতি.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৭৫
৭৫
বেতালপঞ্চবিংশতি

তোমাকে দেখিলে অতিশয় আহ্লাদিত হইবেন। আর তোমার স্থানান্তরে যাইবার প্রয়োজন নাই। এই স্থানেই অবস্থিতি কর আমি চির কাল তোমার চরণ সেবা করিব।

এইরূপ উপদেশ দিয়া রত্নাবতী প্রস্থান করিলে পর সেই ধূর্ত্ত তৎক্ষণাৎ শ্বশুরের নিকটে গিয়া প্রণাম করিল। শ্রেষ্ঠী আলিঙ্গনপূর্ব্বক আশীর্বাদ করিয়া অশ্রুপূর্ণ লোচনে গদ্গদ বচনে জামাতাকে সবিশেষ সমস্ত জিজ্ঞাসিতে লাগিলেন। তখন সে স্বীয় সহধর্ম্মিণীর উপদেশানুরূপ পূর্ব্বাপর কল্পিত বৃত্তান্ত বর্ণন করিয়া পরিশেষে কহিল মহাশয় যেরূপ বিপদে পড়িয়াছিলাম তাহাতে কোন ক্রমে প্রাণরক্ষার সম্ভাবনা ছিল না। কেবল জগদীশ্বরের কৃপায় ও আপনাদিগের শ্রীচরণারবিন্দের অকৃত্রিমস্নেহসম্বলিত আশীর্বাদ প্রভাবে এ যাত্রা পরিত্রাণ পাইয়াছি। যন্ত্রণার পরিসীমা ছিল না। অধিক কি কহিব শত্রুও যেন কখন এরূপ বিপদে পতিত না হয়। ইহা কহিয়া যেন যথার্থই পূর্ব্বাবস্থা স্মরণ হইল এইপ্রকার ভান করিয়া রোদন করিতে লাগিল। তদ্দর্শনে হেমগুপ্তের অন্তঃকরণে অত্যন্ত অনুকম্পা জন্মিল।

রজনী উপস্থিতা হইল। পতিপ্রাণা রত্নাবতী স্বামিসমাগমসৌভাগ্যমদে মত্তা হইয়া পূর্ব্বকৃত তদীয় নৃশংস ব্যবহার বিস্মরণপূর্ব্বক তৎসহবাসসুখসম্ভোগাভিলাষে মনের উল্লাসে