৷৴৹
(বোধিচিত্তরূপ) বারুণী মদ্য বাঁধিলেন। (হে বালযোগি!) সহজকে (সহজানন্দকে) স্থির করিয়া (সংবৃত্তিবোধিচিত্তরূপ) বারুণীতে প্রবেশ কর, যদ্দ্বারা (তুমি) অজর ও অমর হইয়া দৃঢ় স্কন্ধ লাভ করিবে। দশম দুয়ারে (বৈরোচনদ্বারে, মহারাগসুখ-প্রমোদ)-চিহ্ন দেখিয়া গ্রাহক (গন্ধর্ব্বসত্ত্ব) আপনি বহিয়া আসিল (এবং সেই দ্বার দিয়া প্রবেশ করিয়া) দিবারাত্র (মহাসুখকমলরস পানে) [নিজেকে] প্রসারিত করিয়া দিল। গ্রাহক সেই যে প্রবেশ করিল, আর বাহিরে আসিল না। সেই যে একটি ঘটী (পূর্ব্বোক্ত অবধূতিকা), (আভাসদ্বয়নিরোধবশতঃ) তার নাল সরু অর্থাৎ সূক্ষ্ম। বিরুবাপাদ বলিতেছেন—বোধিচিত্তকে নিস্তরঙ্গরূপে চালিত কর।
রাগ অরু
গুণ্ডরীপাদানাম্।— তিয়ড্ডা চাপী জোইনি দে অঙ্কবালী।
কমলকুলিশ ঘাণ্টি করহুঁ বিআলী॥ ধ্রু॥
জোইনি তঁই বিনু খনহিঁ ন জীবমি।
তো মুহ চুম্বী কমলরস পীবমি॥ ধ্রু॥
খেঁপহু জোইনি লেপ ন জাঅ।
মণিকুলে বহিআ ওড়িআণে সমাঅ॥ ধ্রু॥
সাসু ঘরেঁ ঘালি কোঞ্চা তাল।
চান্দসুজবেণি পখা ফাল॥ ধ্রু॥
ভণই গুণ্ডরী অম্হে কুন্দুরে বীরা।
নরঅ নারী মাঝেঁ উভিল চীরা॥ ধ্রু॥
নাড়ীত্রিতরে[অন্ত্যটীকা ২] আরূঢ় হইয়া (পরিশুদ্ধাবধূতিকা নিরাত্ম) যোগিনী-(সাধককে)[অন্ত্যটীকা ৩] অঙ্কবালী (অঙ্ক, স্বচিহ্ন অর্থাৎ স্বরূপতা) দান করেন এবং (বালী—পালী) তাহাকে পালন করেন। (ওহে যোগিবর!) [সুতরাং তুমি] কমল ও কলিশের (সম্যক্ সংযোগ ও) ঘর্ষণে কালরহিত (মহামুদ্রাসিদ্ধির সাক্ষাৎকার লাভ) কর। হে (নৈরাত্ম)-যোগিনি! তোমাকে বিনা আমি ক্ষণমাত্রও বাঁচিব না। (সহজানন্দরূপ) তোমার মুখ চুম্বন করিয়া আমি (বোধিচিত্তরূপ) কমলরস পান করিব। খেপহুঁ (স্বস্থানযোগ হইতে উৎক্ষিপ্ত হইয়া) যোগিনী (মণিমূলে গিয়া, মোহমলে) অবলিপ্ত হয় না; মণিকুলে ক্রীড়ারস অনুভব করিয়া, আবার (মহাসুখচক্র) উড্ডীয়ানে প্রবেশ করে। শ্বাসকে তাহার ঘরে অবরুদ্ধ করিয়া দৃঢ় তালা লাগাও, চন্দ্র ও সূর্য্যের যুক্ত প্রবাহপক্ষকে খণ্ডন কর। গুণ্ডরী বলিতেছেন—কুন্দুরযোগের অনুষ্ঠান দ্বারা (ক্লেশরূপ শত্রু মর্দ্দন করিয়া) আমি বীর হইয়াছি