পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট రిసె নিজের বিপদের কাছে মহারাজাধিরাজ রামচন্দ্র রায় কিছুই নহে । দিবারাত্রি শত শত স্তুতিবাদকের দাড়িপাল্লায় একদিকে জগৎকে ও আর একদিকে নিজেকে চড়াইয়া তিনি নিজকেই ওজনে ভারি বলিয়া স্থির করিয়া রাখিয়াছেন, এইজন্য সহজে আর কাহারো উপরে তার কৃতজ্ঞতার উদয় হয় না। তাহা ছাড়। উদয়াদিত্যের প্রতি কতজ্ঞতা উদয় না হইবার আর এক কারণ এই যে, তিনি মনে করেন উদযাদিত্য নিজের ভগিনীর জন্যই তাহাকে বাচাইয়াছেন, তাহার প্রাণরক্ষাই উদয়াদিত্যের উদ্দেশ্য ছিল না। তাহা ছাড়া যদি বা রামচন্দ্রের হৃদয়ে কতজ্ঞতার সঞ্চার হইত, তবুও তিনি উদয়াদিত্যকে লইয়া হাস্যপরিহাসের ত্রুটি করিতেন না। কারণ যেখানে দশজনে মিলিয়া একজনকে লইয়। হাসিতামাসা করিতেছে, বিশেষত রমাই ভাড় যাহাকে লইয়া বিদ্রুপ করিতেছে, সেখানে তিনি তাহাদের মুখ বন্ধ করেন বা তাহাদের সহিত যোগ না দেন, এমন র্তাহার মনের জোর নাই । তাহার মনে इयं, তাহা হইলে সকলে কী মনে করিবে । - এখনো বিভার প্রতি রামচন্দ্র রায়ের আসক্তির মতো একটা ভাব আছে। বিভা স্বন্দরী, বিভা সবে মাত্র যৌবনে পদার্পণ করিয়াছে, রামচন্দ্র রায়ের সহিত বিভার অতি অল্প দিনই সাক্ষাং হইয়াছে। প্রতাপাদিত্যের প্রতি অবহেলা প্রদর্শ করিয়াছেন–কিন্তু যখন সেই রাত্রে প্রথমু নিত্র ভাঙিয়া সহসা তিনি দেখিলেন, বিভা শয্যায় বসিয়া কাদিতেছে, হার মুখে জ্যোৎস্না পড়িয়াছে, তাহার অৰ্দ্ধ-অনাবৃত বক্ষ র্কাপিয়া কঁাপিয়া উঠিতেছে, তাহার মধুর করুণ দুটি চক্ষু বহিয়া-জল পড়িতেছে, তাহার क्रूम शब्द জ্ঞর কচি কিশলয়ের মতে কঁপিতেছে, তখন তাহার মনে সহষ্ণ একট-কী উচ্ছ্বাস হইল, বিভার মাথা কোলে রাখিলেন, বিভার চোখের জল মুছাইয়া দিলেন, বিভার করুণ অধর চুম্বন করিবার জন্তে হৃদয়ে একটা আবেগ উপস্থিত হইল। তখনই প্রথমত র্তাহার শরীরে