পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


. . বৌ-ঠাকুরাণীর হাট هذ لا মুহূর্বের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চার হইল, তখনই প্রথম তিনি বিভার নববিকাশিত বৌবনের লাবণ্যরাশি দেখিতে পাইলেন, সেই প্রথম র্তাহার নিশ্বাস বেগে বহিল, অৰ্দ্ধ-নিমীলিত নেত্রপল্লবে জলের রেখা দেখা দিল, হৃদয় বেগে উঠতে পড়িতে লাগিল। বিভাকে চুম্বন করিতে গেলেন। এমন সময় স্বাবে আঘাত পড়িল, এমন সময়ে বিপদের সংবাদ শুনিতে পাইলেন। সেই যে হৃদয়ের প্রথম বিকাশ, সেই যে বাসনার প্রথম উচ্ছ্বাস, সেই যে নয়নের মোহ দৃষ্টি, তাহ। পরিতৃপ্ত হইল ন৷ বলিয় তাহার। তৃষা-কাতর হইয়া রামচন্দ্র রায়ের স্মৃতি অধিকার করিয়া রহিল। ইহা স্থায়ী প্রেমের ভাব নহে, কারণ রামচন্দ্র রায়ের লঘু হৃদয়ের পক্ষে তাহ সম্ভব নহে । একটা বিলাস দ্রব্যের প্রতি সৌর্থীন হৃদয়ের ঘেমন সহসা একটা টান পড়ে, সৌখীন রামচন্দ্র রায়েরও বিভার প্রতি সেইরূপ একটা ভাব জন্মিয়ছিল । যাহা স্কুট, যে কারণেই হউক রামচন্দ্র রায়ের যৌবন-স্বপ্নে বিভ জাগিতেছিল। বিভাকে পাইবার জন্য র্তাহার একট। অভিলাষ উদয় হইয়াছিল। কিন্তু যদি বিভাকে আনিতে পাঠান, তাহা হইলে সকলে কী মনে করিবে ! সভাসদের যে র্তাহাকে স্ত্রৈণ মনে করিবে, মন্ত্রী খে ‘মনে মনে অসন্তুষ্ট হইবে, রমাই ভাড় যে মনে মনে হালিবে! তাহ ছাড়া, প্রতাপাদিত্যের তাহা হইলে কী শাস্তি হইল ? : শ্বশুরের উপর প্রতিহিংসা তোলা হইল কৈ ? এইরূপ সাত পাচ ভাবিয়া বিভাকে আনিতে পাঠাইতে র্তাহার ভরসা হয় না, প্রবৃত্তি হয় না । ཨ་མིན་ কি, বিভাকে লইয়া হাস্যপরিহাস চলিতে থাকে, তাহাতে বাধা দিতেও তাহার সাহস হয় না, এবং প্রতাপাদিত্যের কথা মনে করিয়া, তাহাতে বাধী দিতে তাহার ইচ্ছাও হয় না । মৈাই ভাড় ও মন্ত্রী চলিয়া গেলে রামমোহন মাল আসিয়া যোড় হাতে কহিল, “মহারাজ !” * * ն স্ট্র রাজা কহিলেন, “কী রামমোহুন!”