পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট هذذ একটা আঁধারের ছায়া কঁাপিতেছে, বিভা অনেকক্ষণ ধরিয়া চুপ করিয়া সেই ছায়ার দিকে চাহিয়া চাহিয়া বুক ফাটিয়া নিশ্বাস ফেলিয়া কাদিয়া উঠে, "দাদা সে কোথায় গেল ?” উদয়াদিত্য চমকিয় উঠেন, চক্ষুর আচ্ছাদন অপসারণ করিয়া বিভার মুখের দিকে চাহিয়া থাকেন, যেন বিভা কী বলিল ভাল বুঝিতে পারেন নাই, যেন তাহাই বুঝিতে চেষ্ট করিতেছেন, সহসা চৈতন্য হয়, তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছিয়া বিভার কাছে আসিয় বলেন, “আয় বিভা একটা গল্প বলি শোন!” বর্ষার দিন—খুব মেঘ করিয়াছে ; সমস্ত দিন ঝুপ ঝুপ করিয়া বুষ্টি হইতেছে। দিনটা আঁধার করিয়া রহিয়াছে, বাগানের গাছপালাগুলা , স্থিরভাবে দাড়াইয়া ভিজিতেছে। এক একবার বাতাস দিতেছে ও ঘরের মধ্যে বৃষ্টির ছাট আসিতেছে। উদয়াদিত্য . চুপ করিয়া বসিয়া আছেন ; আকাশে মেঘ ডাকিতেছে, দিগন্তে বিদ্যুৎ হানিতেছে sé বৃষ্টির অবিশ্রাম শব্দ কেবল যেন বলিতেছে, “স্বরমা নাই—সে নাই ।” মাঝে মাঝে আর্দ্রবাতাস হুহু করিয়া আসিয়া যেন বলিয়া যায়, “স্বরম কোথায় !” বিভা ধীরে ধীরে উদয়াদিত্যের কাছে আসিয়া কহে—"দাদা" }, অীর উত্তর দিতে পারেন না, বিভাকে দেখিয়াই তিনি মুখ ঢাকিয়া বাতায়নের উপরে মাথা রাখিয়া পড়েন, মাথার উপরে বৃষ্টি পড়িতে থাকে। এমনি করিয়া দিন চলিয়া যায়, সন্ধ্যা হইয়া আসে, রাত্রি হইতে থাকে। বিভা উদয়াদিত্যের আহারের আয়োজন করিয়া আবার আসিয়া বলে, “দাদা, খাবার আসিয়াছে, খাও'লে!” উদয়াদিত্য কোনো উত্তর কক্সে না। রাত্রি অধিক হইতে লাগিল । বিভা কাদিয়া কহে, “দাদা, উঠ, রাত হইল।” উদয়াদিত্য মুখ তুলিয়া দেখেন, বিভা কাদিতেছে ; তাড়াতাড়ি উঠিয়া বিভার চোখ মুছাইয়া থাইতে যান। ভাল করিয়া খান না। বিড় তাই দেখিয়া নিশ্বাস,ফেলিয়া শুইতে যায়, সে আর আহার স্পর্শ ੇ न । ، ، ، سb