পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট 8ఏ জিজ্ঞাসা করিলেন, “বিভা ?” আর কিছু বলিলেন না, কেবল জিজ্ঞাসা করিলেন, “বিভা ?” যেন তাহার মনে একটি অতিক্ষীণ অাশা জাগিয়াছিল যে, সীতারাম যাহা বলিয়াছিল, তাহা সত্য না হইতেও পারে। সমস্তটা স্পষ্ট জিজ্ঞাসা করিতে ভয় হইতেছে পাছে বিভা তাহার উত্তর দিয়া ফেলে ! তাহার ইচ্ছা নয় যে বিভা তৎক্ষণাৎ তাহার এ প্রশ্নের উত্তর দেয় ! তাই তিনি অতি ভয়ে ভয়ে বিভার মুখখানিকে জিজ্ঞাসা করিলেন—“বিভা ?” তাই তিনি অতি একাগ্র দৃষ্টে তাহার মুখের দিকে একবার চাহিলেন । বিভা বুঝিল এবং বিভা উত্তর দিতেও পারিল না। তাহার প্রথম আনন্দ-উচ্ছ্বাস ফুরাইয়া গেছে । আগে যখন দাদা মহাশয় আসিতেন, সেই সব দিন তাহার মনে পড়িয়াছে ! সে এক কী উৎসবের দিনই গিয়াছে ! তিনি আসিলে কী একটা আনন্দই পড়িত ! মুরম হাসিয়া তামাসা করিত, বিভা হাসিত কিন্তু তামাসা করিতে পারিত না, দাদা প্রশান্ত আনন্দ মূৰ্ত্তিতে দাদা মহাশয়ের গান শুনিতেন ; আজ দাদা মহাশয় আসিলেন, কিন্তু , আর কেহ তাহার কাছে আসিল না, কেবল এই আঁধার সংসারে একলা বিভা—স্বখের সংসারের একমাত্র ভগ্নাবশেষের মতো একৃলা—দাদা মহাশয়ের কাছে দাড়াইয়া আছে। দাদা মহাশয় আসিলে যে ঘরে আনন্দ-ধ্বনি উঠিত—সেই সুরমার ঘর এমন কেন ; সে আজ স্তন্ধ, অন্ধকার, শূন্তময়—দাদা মহাশয়কে দেখিলেই সে ঘরট যেন এখনি কাদিয়া উঠিবে । বসন্তরায় একবার কী যেন কিসের আশ্বাসে সেই ঘরের সম্মুখে গিয়া দাড়াইলেন—রজার কাছে দাড়াইয় ঘরের মধ্যে মাথা লইয়া একবার চারিদিক দেখিলেন, তৎক্ষণাৎ মুখ ফিরাইয়া বুকফাট কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিলেন—“দিদি, ঘরে কি কেহই নাই?” বিভা কাদিয়া উঠিয়া কহিল, “না দাদা মহাশয়, কেহই না।” স্তৰ ঘরটা যেন হা-হা করিয়া বলিয়া উঠিল—“আগে যাহারা ছিল उाइब्रा cकङ्हे नाइँ !”