পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У Ф. о বৌ-ঠাকুরাণীর হাট বসন্তরায় অনেকক্ষণ পৰ্য্যন্ত চুপ করিয়া দাড়াইয়া রহিলেন, অবশেষে বিভার হাত ধরিয়া আস্তে আস্তে গাহিয়া উঠিলেন— · “আমি শুধু রৈন্থ বাকি !” বসন্তরায় প্রতাপাদিত্যের কাছে গিয়া নিতান্ত মিনতি করিয়া —“বাবা প্রতাপ, উদয়কে আর কেন কষ্ট দাও—সে তোমাদের কী করিয়াছে ? তাহাকে যদি তোমরা ভাল না বাস পদে পদেই যদি সে তোমাদের কাছে অপরাধ করে—তবে তাহাকে এই বুড়ার কাছে দাও না। আমি তাহাকে লইয়া যাই—আমি তাহাকে রাখিয়া দিই— তাহাকে আর তোমাদের দেখিতে হইবে না—সে আমার কাছে থাকিবে ।” প্রতাপাদিত্য অনেক ক্ষণ পৰ্য্যন্ত ধৈৰ্য্য ধরিয়া চুপ করিয়া বসন্তরায়ের কথা শুনিলেন, অবশেষে বলিলেন—“খুড়া মহাশয়, আমি যাহা করিয়াছি তাহা অনেক বিবেচনা করিয়াই করিয়াছি—এবিষয়ে আপনি অবশ্যই আমার অপেক্ষ অনেক অল্প জানেন—অথচ আপনি পরামর্শ দিতে আসিয়াছেন, আপনার এ সকল কথা আমি গ্রাহ কুরিতে পারি না।” তখন বসন্তরায় উঠিয়া প্রতাপাদিত্যের কাছে মাসিয়া প্রতাপাদিত্যের হাত ধরিয়া কহিলেন—“বাবা প্রতাপ, মনে কি নাই ! তোকে যে আমি ছেলেবেলায় কোলে পিঠে করিয়া মানুষ করিলাম, সে কি আর মনে পড়ে না ? স্বৰ্গীয় দাদা ষে দিন তোকে আমার হাতে সমর্পণ করিয়া গিয়াছেন, সে দিন হইতে আমি কি এক মুহূর্তের জন্য তোকে কষ্টদিয়াছি ? অসহায় অবস্থায় যখন তুই আমার হাতে ছিলি, এক দিনও কি তুই আপনাকে नेिझैन বলিয়া মনে করিতে পারিয়াছিলি ? প্রতাপ, বল দেখি, আমি তোর কী অপরাধ করিয়াছিলাম যাহাতে আমার এই বৃদ্ধ বয়সে তুই আয়াকে এত কষ্ট দিতে পারিলি ? এমন কথা আমি বলি না যে, তোকে পালন করেছিলাম বলিয়া তুই আমার কাছে ঋণী—তোদের মানুষ