পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট Ꮌ © Ꮌ করিয়া আমিই আমার দাদার স্নেহ-ঋণ শোধ করিতে চেষ্টা করিয়াছিলাম। অতএব প্রতাপ, আমি প্রাপ্য বলিয়া তোর কাছে কিছুই চাহি না, কখনো চাহিও নাই, আমি কেবল তোর কাছে ভিক্ষা চাহিতেছি— তাও দিবি না ?” বসন্তরায়ের চোখে জল পড়িতে লাগিল, প্রতাপাদিত্য পাষাণ মূৰ্ত্তির ন্যায় বসিয়া রহিলেন । বসন্তরায় আবার কহিলেন—“তবে আমার কথা শুনিবি না,—আমার ভিক্ষ রাখিবি না—? কথার উত্তর দিবিনে প্রতাপ ?”—দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন, “ভাল—আমার আর একটি ক্ষুদ্র প্রার্থনা আছে, একবার আমি উদয়কে দেখিতে চাই—আমাকে তাহার সেই কারাগুহে প্রবেশ করিতে কেহ যেন নিষেধ না করে—এই অনুমতি দাও !” প্রতাপাদিত্য তাহাও দিলেন না। র্তাহার বিরুদ্ধে উদয়াদিত্যের প্রতি এতখানি স্নেহ প্রকাশ করাতে প্রতাপাদিত্য মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিলেন। র্তাহার যতই মনে হয় লোকে তাহাকেই অপরাধী করিয়া তুলিতেছে, ততই তিনি আরো বাকিয়া দাড়ান! বসন্তরায় নিতান্ত স্নান মুখে অন্তঃপুরে ফিরিয়া গেলেন–র্তাহার মুখ দেখিয়া বিভার অত্যন্ত কষ্ট হইল। বিভা দাদা মহাশয়ের হাত ধরিয়া —“দাদা মহাশয় আমার ঘরে এসো।” বসন্তরায় নীরবে বিভার সঙ্গে সঙ্গে বিভার ঘরে প্রবেশ করিলেন । তিনি ঘরে বসিলে পর বিভা তাহার কোমল অঙ্গুলি দিয়া তাহার পাকা চুলগুলি নাড়িয়া দিয়া কহিল—“দাদা মহাশয়, এসো, তোমার পাকাচুল তুলিয়া দিই।” বসন্তরায় কহিলেন, “দিদি, সে পাকাচুল কি আর আছে ? যখন বয়স হয় নাই তখন সে সব ছিল, তখন তোদের পাকাচুল তুলিতে বলিতাম—আজ আমি বুড়া হইয়া গিয়াছি—আজ আর আমার পাকাচুল নাই।” বসন্তরায় দেখিলেন বিভার মুখখানি মলিন হইয়া আসিল, তাহার