পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮌ ©Ꮤ9 বৌ-ঠাকুরাণীর হাট একবার मर्त्रे হইল—“বিভার কি ক্রমেই বিরক্তি ধরিতেছে ? এই নিরানন্দ কারাগারের মধ্যে এক বিষন্ন অন্ধকার মূৰ্ত্তির সেবা করিতে আর কি তাহার ভাল লাগিতেছে না ? আমাকে কি ক্রমেই সে তাহার মুখের বাধা—তাহার সংসার-পথের কণ্টক বলিয়া দেখিবে ? আজ দেরি করিয়া আসিয়াছে—কাল হয় ত আরো দেরি করিয়া আসিবে —তাহার পরে এক দিন হয় ত সমস্ত দিন বসিয়া আছি কখন বিভা আসিবে—বিকাল হইল—সন্ধ্য হইল—রাত্রি হইল, বিভা আর আসিল না !—তাহার পর হইতে আর হয় ত বিভা আসিবে না।” উদয়াদিত্যের মনে যতই এই কথা উদয় হইতে লাগিল, ততই তাহার মনট। হা-হা করিতে লাগিল— তাহার কল্পন-রাজ্যের চারিদিক কী ভয়ানক শূন্তময় দেখিতে লাগিলেন। এক দিন আসিবে যে দিন বিভা তাহকে স্নেহশূন্য নয়নে তাহার মুখের কণ্টক বলিয়া দেখিবে—সেই অতি দূর কল্পনার আভাস মাত্র লাগিয়া তাহার হৃদয় একবারে ব্যাকুল হইয় উঠিল। একবার মনে করিতেছেন "জামি কী ভয়ানক স্বার্থপর ! আমি বিভাকে ভালবাসি বলিয় তাহার যে ঘোরতর শক্ৰতা করিতেছি, কোন শক্রও বোধ কুরি এমন পারে না।” বার বার করিয়া প্রতিজ্ঞ করিতেছেন আর বিভার উপর নির্ভর করিবেন না—কিন্তু যখনি কল্পনা করিতেন তিনি বিভাকে হারাইয়াছেন, তখনি তাহার মনে সে বল চলিয়া যাইতেছে, তখনি তিনি অকূল পাথরে পড়িয়া যাইতেছেন—মরণাপন্ন মজ্জমান ব্যক্তির মতে বিভার কাল্পনিক মূৰ্ত্তিকে আকুল ভাবে অঁাকড়িয়া ধরিতেছেন। 晶 耻 এমন সময়ে বহির্দেশে সহসা “অাগুন—আগুন” বলিয়া এক ঘোরতর ফুেলাই উঠিল। উয়াদিত্যের বুক কঁাপিয়া উঠিল—বাহিরে শত শত কণ্ঠরোল একত্রে উঠিল, সহসা নানা কষ্টের নানাবিধ চীংকার সহিত আকাশে শত লোকের দ্রুত গদশৰ শুনা গেল। উদয়াদিত্য বুঝিলেন, প্রাসাদের কাছাকাছি কোথাও আগুন লাগিয়াছে। অনেকক্ষণ ধরিয়া