পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট S(tS) “ভালই হইয়াছে—তোর তাঁহাতে কী ?” বলিয়া সে তাহাকে উত্তমরূপে প্রহার করিল—যাহার ঘরে আগুন লাগাইয়াছিল, এ ব্যক্তি তাহাদের মধ্যে একজন। প্রহার খাইয়া সেই রমণীর মূৰ্ত্তি অতি ভীষণ হইয়া উঠিল—কুদ্ধ বাঘিনীর মতো তাহার চোখ দুটা জলিতে লাগিল, তাহার চুলগুলা ফুলিয়া উঠিল; সে দাতে দাতে কিড়মিড় করিতে লাগিল, তাহার সেই মুখের উপর বহিশিখার আভা পড়িয়া তাহার মুখ পিশাচীর মতো দেখিতে হইল। সম্মুখে একটা কাষ্ঠখণ্ড জলিতেছিল, সেইটি তুলিয়৷ লইল, হাত পুড়িয়া গেল, কিন্তু তাহা ফেলিল না, সেই জলন্ত কাষ্ঠ লইয়া তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটিল কিছুতে ধরিতে ন পারিয়—সেই কাষ্ঠ তাহার প্রতি ছুড়িয়া মারিল। ব্রিংশ পরিচ্ছেদ সীতারাম যুবরাজকে সঙ্গে করিয়া খালের ধারে লইয়া গেল ; সেখানে একখান। বড় নৌকা বাধা ছিল, সেই নৌকার সম্মুখে উভয়ে গিয়া দাড়াইলেন। তাহাদের দেখিয়া নৌকা হইতে এক ব্যক্তি তাড়াতাড়ি বাহির হইয়া আসিয়া কহিল, "দাদা, আসিয়াছিস্ ?” উদয়াদিত্য একেবারে চমকিয়া উঠিলেন—সেই চির পরিচিত স্বর, যে স্বর বাল্যের । স্মৃতির সহিত, যৌবনের স্থখ দুঃখের সহিত জড়িত—পৃথিবীতে যতটুকু স্বখ আছে, যতটুকু আনন্দ আছে যে স্বর তাহারি সহিত অবিচ্ছিন্ন ! এক এক দিন কারাগারে গভীর রাত্রে বিনিদ্র নয়নে বসিয়া সহসা স্বপ্নে বংশিধ্বনির ন্যায় যে স্বর শুনিয়া চমকিয়া উঠিতেন—সেই স্বর! বিস্ময় ভাঙিতে না ভাঙিতে বসন্তরায় আসিয়া তাহাকে আলিঙ্গন করিয়া ধরিলেন। উভয়ের দুই চক্ষু বাম্পে পূরিয়া গেল। উভয়ে সেই খানে তৃণের উপর বসিয়া পড়িলেন। অনেক ক্ষণের পর উদয়াদিত্য কহিলেন, "দাদা মহাশয় ?” বসন্তরায় কহিলেন, “কী দাদা !” আর কিছু কথা