পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট SఆS উদয়াদিত্য নিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন—“তবে যাই—আমি কারাগারে ফিরিয়া যাই ।” বসন্তরায় তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়া কহিলেন, “কেমন যাইবি যা দেখি । আমি যাইতে দিব না।” উদয়াদিত্য কহিলেন, "দাদা মহাশয়, এ হতভাগ্যকে লইয়া কেন বিপদকে ডাকিতেছ! আমি যেখানে থাকি সেখানে কি তিলেক শাস্তির সম্ভাবনা আছে ?” বসন্তরায় কহিলেন—“দাদা তোর জন্য যে বিভাও কারাবাসিনী হইয়া উঠিল । এই তাহার নবীন বয়সে সে কি তাহার সমস্ত জীবনের সুখ জলাঞ্জলি দিবে ?” বসন্তরায়ের চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল । ভগন উদয়াদিত্য তাড়াতাড়ি কহিলেন, “তবে চলো চলে। দাদা মহাশয় । সীতারামের দিকে চাহিয়া কহিলেন, “সীতারাম, প্রাসাদে তন থানি পত্র পাঠাইতে চাই ।” সীতারাম কহিল—“নৌকাতেই কাগজ কলম আছে, আনিয়। দিতেছি। শীঘ্ৰ করিয়া লিখিবেন অধিক সময় নাই ।” ” উদয়াদিত্য পিতার কাছে মার্জনা ভিক্ষা করিলেন । মাতাকে লিখিলেন —“ম, আমাকে গর্ভে ধরিয়া তুমি কখনো সুখী হইতে পারে। নাই । এইবার নিশ্চিন্ত হও মা—আমি দাদা মহাশয়ের কাছে যাইতেছি, সেখানে আমি মুখে থাকিব, স্নেহে থাকিব, তোমার কোনো ভাবনার কারণ থাকিবে না।” বিভাকে লিখিলেন “চিরায়ুষ্মতীযু—তোমাকে আর কী লিখিব—তুমি জন্ম জন্ম স্বখে থাকো—স্বামিগুহে গিয়া স্বথের সংসার পাতিয়া সমস্ত দুঃখ কষ্ট ভুলিয়া যাও!” লিখিতে লিখিতে উদয়াদিত্যের চোখ জলে পূরিয়া আসিল সীতারাম সেই চিঠি তিনখানি এক জন দাড়ির হাত দিয়া প্রাসাদে পাঠাইয়া দিল। সকলে নৌকাতে উঠিতেছেন —এমন সময়ে দেখিলেন কে এক জন ছুটিয়া তাহাদের দিকে আসিতেছে। SY