পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট Y∂ግ আসিলাম! আগে, তোকে, আর যুবরাজকে চুলায় শুয়াইব, তোদের চুল হইতে দু মুঠা ছাই লষ্টয়া গায়ে মাখিয়া দেহ সার্থক করিব—তার পরে ঘমের সাধ মিটাইব—তাহার আগে যমালয়ে আমার ঠাই নাই ।” রুক্মিণীর গলা শুনিয়া সীতারামের অত্যন্ত সাহস হইল । সে সহসা অত্যন্ত অনুরাগ দেখাইয়া রুক্মিণীর সহিত ভাব করিয়া লইবার চেষ্টা করিতে লাগিল। খুব যে কাছে ঘোঁসিয়া গেল, তাহা নহে, অপেক্ষাকৃত কাছে আসিয়া কোমল স্বরে কহিল,—“মাইরি ভাই, ঐ জন্যই তো রাগ ধরে ! তোমার কখন যে কী মতি হয়, ভাল বুঝিতে পারি না ! বলতে মঙ্গলা, আমি তোর কী করেছি! অধীনের প্রতি এত অপ্রসন্ন কেন ? মান করেছিস্ বুঝি ভাই ? সেই গানটা গাব ?” সীতারাম যতই অনুরাগের ভাণ করিতে লাগিল রুক্মিণী ততই ফুলিয়া উঠিতে লাগিল—তাহার আপাদমস্তক রাগে জলিতে লাগিল—সীতারাম যদি তাহার নিজের মাথার চুল হইত, তবে তাহা দুই হাতে পট্‌পট্‌ করিয়া ছিড়িয়া ফেলিতে পারিত, সীতারাম যদি তাহার নিজের চোখ হইত, তবে তৎক্ষণাৎ তাহ নখ দিয়া উপড়াইয়া পা দিয়া দলিয়া ফেলিতে পারিত। চারিদিকে চাহিয়া দেখিল কিছুই হাতের কাছে পাইল না ! দাতে দাতে লাগাইয়া কহিল,"একটু রোসো ; তোমার মুগুপাত করিতেছি” বলিয়া থৰ্বখৰ্ব করিয়া কঁাপিতে কঁাপিতে বঁটির অন্বেষণে পাশের ঘরে চলিয়া গেল। এই কিছুক্ষণ হইল—সীতারাম গলায় চাদর বাধিয়া রূপক অলঙ্কারে মরিবার প্রস্তাব উত্থাপিত করিয়াছিল, কিন্তু রুক্মিণীর চেহারা দেখিয়া তাহার রূপক ঘুরিয়া গেল, এবং চৈতন্য হইল যে, সত্যকার বঁটির আঘাতে মরিতে এখনো সে প্রস্তুত হইতে পারে নাই—এই নিমিত্ত অবসর বুঝিয়া তৎক্ষণাং কুটারের বাহিরে সরিয়া পড়িল। রুক্মিণী বঁটি হস্তে শূন্ত গৃহে আসিয়া ঘরের মেজেতে সীতারামের উদ্দেশে বারবার আঘাত করিল। রুক্মিণী এখন "মরিয়া” হইয়াছে। যুবরাজের আচরণে ত্বাহার চুরাশা