পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ֆ Պo বৌ-ঠাকুরাণীর হাট তার কেউ নয় সীতারামই যেন তার সব । এ সমস্ত সেই সীতাবামের কাজ। বুড় রাজা, সীতারাম, আর তোমাদের যুবরাজ, এই তিন জনে । মিলিয়া পরামর্শ করিয়া ইহা করিয়াছে—এই তোমাকে স্পষ্ট বলিলাম !” প্রতাপাদিত্য অনেকক্ষণ ধরিয়া স্তব্ধ হইয়া রহিলেন ! জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি এসব কী করিয়া জানিতে পারিলে ?” রুক্মিণী কহিল— “সে কথায় কাজ কি গা ! আমার সঙ্গে লোক দাও, আমি স্বয়ং গিয়া তাহাদের খুজিয়া বাহির করিয়া দিব। তোমার রাজবাড়ির চাকররা সব ভেড়া—উহারা এ কাজ করিবে না।” প্রতাপাদিত্য রুক্মিণীর সহিত লোক দিতে আদেশ করিলেন ও প্রহরীদিগের প্রতি যথাবিহিত শাস্তির বিধান করিলেন । একে একে সভাগৃহ শূন্ত হইয়া গেল। কেবল মন্ত্রী ও মহারাজ অবশিষ্ট রহিলেন । মন্ত্রী মনে করিলেন, মহারাজ অবশ্য র্তাহাকে কিছু বলিবেন । কিন্তু প্রতাপাদিত্য কিছুই বলিলেন না, স্তন্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন। মন্ত্রী একবার কী বলিবার অভিপ্রায়ে অতি ধীরস্বরে কহিলেন “মহারাজ !” মহারাজ তাহার কোনো উত্তর করিলেন না। মন্ত্রী ধীরে ধীরে উঠিয়া গেলেন । * * ( সেই দিনই সন্ধ্যার পূর্বে প্রতাপাদিত্য একজন জেলের মুখে উদয়াদিত্যের পলায়ন সংবাদ পাইলেন। নৌকা করিয়া নদী বাহিয়৷ উদয়াদিত্য চলিয়াছিলেন সে তাঁহাকে দেখিয়াছিল। ক্রমে ক্রমে অন্যান্য নানা লোকের মুখ হইতে সংবাদ পাইতে লাগিলেন। রুক্মিণীর সহিত যে লোকেরা গিয়াছিল, তাহারা এক সপ্তাহ পরে ফিরিয়া আসিয়া কহিল-দল্লুবরাজকে রায়গড়ে দেখিয়া আসিলাম। রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, “সেই স্ত্রীলোকটি কোথায় ?” তাহারা কহিল, “সে আর ফিরিয়া আসিল না, সে সেইখানেই রহিল।" তখন প্রতাপাদিত্য মুক্তিয়ার খা নামক র্তাহার এক পাঠান