পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Տ ԳՆ বৌ-ঠাকুরাণীর হাট প্রত্যহ যুবরাজের কাছে প্রজারা আসিতে লাগিল। যুবরাজ তাহাদের কত কী কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। এখনো যে উদয়াদিত্য তাহাদিগকে ভোলেন নাই, তাহা দেখিয়া প্রজারা অত্যন্ত আনন্দিত ও বিস্মিত হইল । মখুব কহিল, “মহারাজ, আপনি যে-মাসে রায়গড়ে আসিয়াছিলেন সেই মাসে অামাব এই ছেলেটি জন্মায়, আপনি দেখিয়া গিয়াছিলেন, তার পবে আপনার আশীৰ্ব্বাদে আমার আরো দুটি সন্তান জন্মিয়াছে।” বলিয়। সে তাহার তিন ছেলেকে যুবরাজেব কাছে আনিয়া কহিল, “প্রণাম করে।” তাহার। ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিল। পরাণ আসিয়া কহিল, "এগান হইতে যশোবে যাইবার সময় হুজুর যে নৌকায় গিয়াছিলেন, আমি সেই নৌকায় মাঝি ছিলাম, মহারাজ !” শীতল সর্দার আসিয়া কহিল, “মহাবাজ, আপনি যখন রায়গডে ছিলেন, তখন আমার লাঠি খেল দেখিযা বক্সিস দিয়াছিলেন, আজ ইচ্ছা আছে একবার আমার ছেলেদেব খেলা মহারাজকে দেখাইব । এসে তে বাপধন, তোমরা এগোওত ।” বলিয়। ছেলেদের ডাকিল। এইরূপ প্রত্যহ সকাল হইলে উদয়াদিতোর কাছে দলে দলে প্রজারা অসিত ও সকলে একত্রে মিলিয়৷ কথা কহিত । এইরূপ গ্রেহের মধ্যে, গাছপালার মধ্যে, আনদের মধ্যে গীতোচ্ছাসের মধ্যে থাকিয়া স্বভাবতই উদয়াদিত্যের মন হইতে ভাবনা অনেকট। শিথিল হইয়া'আসিল । তিনি চোখ বুজিয়া মনে করিলেন, পিতা হয়ত রাগ করেন নাই, তিনি হয়ত সন্তুষ্ট হইয়াছেন, নহিলে এত দিন আর কি কিছু করিতেন,#া! " কিন্তু এরূপ চোখ-বাধা বিশ্বাসে বেশি দিন মনকে ভুলাইয়া রাখিতে পাঠিয়ে না তাহার দাদা মহাশয়েব জন্য মনে কেমন একটা জয় কষ্টতে লাগিল। যশোহরে ফিরিয়া যাইবার কথা দাদা মহাশয়কে বলা বৃথা । তিনি স্থির করিলেন একদিন লুকাইয়া যশোহরে পালাইয় যাইব । জাৰার সেই কাগার মনে পডিল। কোথায় এই আনন্দের