পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট পরিল না। এইরূপে সে মান রক্ষা কবিয়া সীতারামকে ঋণ তাহার বিনিময়ে আপনার প্রাণবক্ষার বন্দোবস্ত করিয়া লইল । ইহার উপর সীতারামের বিধবা মাত আছে ও এক অবিবাহিতা বালিক। কন্য। আছে । এদিকে অবাব সীতাবাম লোকটি অতিশয় সৌধীন, আমোদ প্রমোদটি নহিলে তাহরে চলে না। সাতারামেব অবস্থার পরিবর্তন হইয়াছে, অথচ তাহর সঙ্গে সঙ্গে আন্তষঙ্গিক পরিবত্তন কিছুই হয় _Y নাই । তাহার পিসার ক্ষুধাতৃষ্ণ ঠিক সমান রহিয়াছে ; ভাগিনেয়টির যতই বয়স বাড়িতেছে, ততই তাহার উদরের প্রসর ও মামার মান অপমানের প্রতি দৃষ্টি অধিক করিঘা বাড়িতেছে। সীতারামের টাকার থলি ব্যতীত আর কাহারে। উদর কমিবাব কোনে লক্ষণ প্রকাশ করিতেছে না। সীতারামের অন্যান্য গল গ্রহের সঙ্গে সর্থটিও বজায় আছে, সেটি ধারের উপর বন্ধিত হইতেছে, সুদও যে পরিমাণে পুষ্ট হইতেছে, সেও সেই পবিমাণে পুষ্ট হইয়। উঠিতেছে । উদয়াদিত্য সীতারামের দরিদ্র্যদশা শুনিয় তাহার ও ভাগবতের মাসিক বৃত্তি নিৰ্দ্ধারণ” করিয়া দিলেন। সীতারাম টাকাট। পাইয় অত্যন্ত লজ্জিত হইয়া পড়িল । মহারাজার নিকট উদয়াদিত্যের নাম করিয়| অবধি সে নিজের কাছে ও উদয়াদিত্যের কাছে নিতান্ত অপরাধী হইষ আছে। উদয়াদিতোর টাকা পাইয়। সে কাদিয়া ফেলিল। এক দিন যুবরাজের সাক্ষাং পাইয়া তাহার থা জডাইয়া ধরিয়া উহাকে ভগবান, জগদীশ্বর, দয়াময় সম্বোধন করিয়া বিস্তর ক্ষম। চাহিল ৷ ভাগবত লোকট অত্যন্ত ঠাণ্ড প্রকৃতির ! সে সতরঞ্চ খেলে, তামাক খঙ্গ ও প্রতিবেশদিগকে স্বর্গ নরকের জমী বিলি করিয়া দেয় । সে যখন উদয় দিত্যের টাকা পাইল, তখন মুখ বেকাইয়া নানা ভাব ভঙ্গীতে জানাইল যে, যুবরাজ তাহার যে সৰ্ব্বনাশ করিয়াছেন, এ টাকাতে তাহার কী প্রতিশোধ হইবে! টাকাটা লইতে সে কিছুমাত্র আপত্ত্বি ধ্রুল না। t