পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বৌ-ঠাকুরাণীর হাট

১৩১

তাঁহার অভিপ্রায় ছিল না। কেবল বিভাকে তাহার পিতার সম্বন্ধে মাঝে মাঝে খুব লজ্জা দিবেন এই আনন্দেই তিনি অধীর ছিলেন। এমন কি, এই আনন্দের প্রভাবে তাঁহার মনেই হয় নাই যে, বিভার আসিবার পক্ষে কোন বাধা থাকিতে পারে। এমন সময়ে রামমােহনকে একাকী আসিতে দেখিয়া রামচন্দ্র রায় নিতান্ত বিস্মিত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “কি হইল, রামমােহন?”

 রামমােহন কহিল, “সকলি নিষ্ফল হইয়াছে!”

 রাজা চমকিয়া উঠিয়া কহিলেন, “আনিতে পারলিনে?”

 রামমােহন—“আজ্ঞা, না মহারাজ! কুলগ্নে যাত্রা করিয়াছিলাম!”

 রাজা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “বেটা তােকে যাত্রা করিতে কে বলিয়াছিল? তখন তােকে বার বার করিয়া বারণ করিলাম, তখন যে তুই বুক ফুলাইয়া গেলি, আর আজ—”

 রামমােহন কপালে হাত দিয়া ম্লান মুখে কহিল, “মহারাজ, আমার অদৃষ্টের দোষ!”

 রামচন্দ্র রায় আরো ক্রুদ্ধ হইয়া বলিলেন, “রামচন্দ্র রায়ের অপমান! তুই বেটা আমার নাম করিয়া ভিক্ষা চাহিতে গেলি, আর প্রতাপাদিত্য দিল না। এত বড় অপমান আমাদের বংশে আর কখন হয় নাই।”

 তখন রামমােহন নতশির তুলিয়া ঈষৎ গর্ব্বিতভাবে কহিল, “ও কথা বলিবেন না। প্রতাপাদিত্য যদি না দিত, আমি কাড়িয়া আনিতাম। আপনার কাছে তাহা ত বলিয়াই গিয়াছিলাম। মহারাজ, যখন আপনার আদেশ পালন করিতে যাই, তখন কি আর প্রতাপাদিত্যকে ভয় করি? প্রতাপাদিত্য রাজা বটে, কিন্তু আমার রাজা ত সে নয়।”

 রাজা কহিলেন, “তবে হইল না কেন?”

 রামমােহন অনেক ক্ষণ চুপ করিয়া রহিল, তাহার চোখে জল দেখা দিল।