পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বৌ-ঠাকুরাণীর হাট

২৭

পঞ্চম পরিচ্ছেদ।

 প্রতাপাদিত্য কহিলেন “দেখ দেখি মন্ত্রী, সে পাঠান দুটা এখনও আসিল না!”

 মন্ত্রী ধীরে ধীরে কহিলেন, “সেটা ত আর আমার দোষ নয় মহারাজ!”

 প্রতাপাদিত্য বিরক্ত হইয়া কহিলেন, “দোষের কথা হইতেছে না। দেরী যে হইতেছে তাহার ত একটা কারণ আছে? তুমি কি অনুমান কর, তাহাই জিজ্ঞাসা করিতেছি।”

 মন্ত্রী। “শিমুলতলী এখান হইতে বিস্তর দূর। যাইতে, কাজ সমাধা করিতে ও ফিরিয়া আসিতে বিলম্ব হইবার কথা।”

 প্রতাপাদিত্য মন্ত্রীর কথায় অসন্তুষ্ট হইলেন। তিনি চান, তিনিও যাহা অনুমান করিতেছেন, মন্ত্রীও তাহাই অনুমান করেন। কিন্তু মন্ত্রী সে দিক্‌ দিয়া গেলেন না। প্রতাপাদিত্য কহিলেন, “উদয়াদিত্য কাল রাত্রে বাহির হইয়া গেছে?”

 মন্ত্রী। “আজ্ঞা হাঁ, সে ত পূর্ব্বেই জানাইয়াছি।”

 প্রতাপাদিত্য। “পূর্ব্বেই জানাইয়াছি! কি উপযুক্ত সময়েই জানাইয়াছ। যে সময়ে হউক্ জানাইলেই বুঝি তােমার কাজ শেষ হইল? উদয়াদিত্য ত পূর্ব্বে এমনতর ছিল না। শ্রীপুরের জমিদারের মেয়ে বােধ করি তাহাকে কুপরামর্শ দিয়া থাকিবে। কি বােধ হয়?”

 মন্ত্রী। “কেমন করিয়া বলিব মহারাজ?”

 প্রতাপাদিত্য বলিয়া উঠিলেন “তােমার কাছে কি আমি বেদবাক্য শুনিতে চাহিতেছি? তুমি কি আন্দাজ কর, তাই বল না!”

 মন্ত্রী। “আপনি মহিষীর কাছে বধূমাতাঠাকুরাণীর কথা সমস্তই