পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমাদেরকে বস্তুপুঞ্জের নয়, আস্তর আলোকের সম্পদ, শক্তির নয়, ভালোবাসার সম্পদ দান করে, সেই পরম সত্যকে যেন আমরা খুজে পাই । আত্মার এই মুক্তি আমাদের দেশে পুথিবিজ্ঞাহীন ও চরম দরিদ্র মানুষের মধ্যে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। ভারতবর্ষে আমাদের এই অধ্যাত্মজ্ঞানের সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে আমরা পেয়েছি। আমাদের সামনে এই জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন ও আমাদের জীবনে তার সত্য ব্যবহারের ক্ষমতার উদ্বোধন, এই হোক আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য । আর যখন সময় আসবে তখন যেন জগতের অনন্ত মঙ্গলের জন্য তার কাছে এই জ্ঞানের ভাণ্ডার আমাদের উপহার স্বরূপ অৰ্পণ করতে পারি—তাই হোক আমাদের সাধনা ৷ যখন এই সত্য তার গভীরতম বেদনা নিয়ে আমার মনকে আঘাত করল, তখন আমি সাহিত্যকর্মে ডুবে ছিলাম। নিশীথের দুঃস্বপ্নচিন্তায় শ্বাসরুদ্ধ মানুষের মতোই তখন আমি যন্ত্রণ অনুভব করেছি। এ আমার আপন আত্মা নয়, আমার দেশের আত্মাই যেন আমার মধ্য দিয়ে শ্বাসগ্রহণেব জন্য সংগ্রাম করছিল। আমি পরিষ্কার অনুভব করলাম যে কোনো বিশেষ জাগতিক পদার্থ— সম্পদ, স্বাচ্ছন্দ্য বা ক্ষমতার প্রয়োজন নেই, আত্মিক স্বাধীনতার পূর্ণ চেতনায় আমাদের জাগরণ প্রয়োজন। সে স্বাধীনতা হল ঈশ্বরাশ্রিত জীবনের স্বাধীনতা—সেখানে যারা লড়াই করে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শক্রতা নেই, যারা অর্থ উপার্জন করে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নেই—সেখানে আমরা সকল আক্রমণের বাইরে ও সকল অপমানের উধেবর্ণ। আমার সৌভাগ্যক্রমে আমার এমন একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিল যেখানে আমি আমার কাজ শুরু করতে পারি। আমার পিতৃদেব তার অসংখ্য ভ্রমণের একটিতে এই নির্জন ক্ষেত্রটিকে তার ঈশ্বর Soo