পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পেরেছি, তার জন্যে আমার অপ্রত্যাশা কিছুটা দায়ী। বাইরের সহানুভূতি, সাহায্য বা উপদেশ ছাড়াই আমি আমার পথে চলেছি। আমার সাধ্য ছিল খুবই কম, তার উপর ভারী ঋণের বোঝা কাধে চেপেছিল। কিন্তু এই দারিদ্র্যই আমাকে স্বাধীনতার পূর্ণ শক্তি দিয়েছে, আমাকে বস্তুর উপর নির্ভর না ক’রে সত্যের উপর নির্ভর করতে শিখিয়েছে। এই বিদ্যালয়ের বৃদ্ধি হয়েছে আমার জীবনের বৃদ্ধির সঙ্গে, আর তা নিছক আমার মতবাদের বাহনরূপে নয়। যেমন ভাবে পেকে-ওঠা ফলের আয়তন গড়ে ওঠে, রং গভীর হয়, তার ভিতরকার শাস বদলে যায়, সেই ভাবে এই বিদ্যালয়ের আদর্শ তার পূর্ণতার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে। আমি এই ধারণা নিয়ে শুরু করেছিলাম যে অামাকে একটি পরোপকারী উদ্দেশ্য সাধন করতে হবে। আমি খুব খেটেছিলাম, কিন্তু এই তৃপ্তিমাত্র পেয়েছিলাম যে অর্থ, উদ্যম ও সময় ব্যয়িত হয়েছে এবং তার জন্যে অামি আমার অভ্রান্ত সততার প্রশংসা করতে পারি। কিন্তু ফল যা পেয়েছিলাম, তার মূল্য সামান্য । আমি একটার পর একটা শিক্ষাব্যবস্থা গড়েছি ও ভেঙেছি । তা কেবল আমাৰ সময়কে অধিকার ক’রে ছিল, কিন্তু অন্তরে আমার কাজ ছিল শূন্ততায় ভরা। আমার বেশ মনে রয়েছে আমার পিতৃদেবের এক পুরানো শিষ্য এসেছিলেন ও আমাকে বলেছিলেন, আমার চার দিকে যা দেখছি তা যেন বিবাহবাসরের মতো, এখানে আয়োজনের কোনো ত্রুটি নেই, কেবল বরই আসে নি। আমার ভুল হয়েছিল যে আমি আমার উদেশ্বকে সেই বর বলে মনে করেছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার হৃদয় তার কেন্দ্রভূমিকে খুজে পেল। তা কাজের মধ্যে নেই, আমার ইচ্ছার মধ্যে নেই, আছে সত্যের মধ্যে । আমি 6 ఏ