পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শান্তিনিকেতন-ভবনের ছাতে একা বসেছিলাম ও আমার সামনে শালবীথিকার বৃক্ষশীর্ষদেশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলাম। আমার নিজস্ব কর্ম-পরিকল্পনা ও হিসাব থেকে, আমার দৈনন্দিন সংগ্রাম থেকে আমার অন্তরকে সরিয়ে নিয়েছিলাম ও আকাশভর শান্তি ও প্রসন্নতার সামনে নিঃশব্দে তুলে ধরেছিলাম। ধীরে ধীরে আমার অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে গেল। আমার আত্মার দৃষ্টি দিয়ে অামার চারপাশের জগৎকে দেখতে শুরু করলাম । 7গাছগুলিকে পৃথিবীর মূক হৃদয় থেকে উত্থিত নিঃশব্দ স্রোত বলে আমার মনে হত। আর ছেলেদের হাসি ও চীৎকার সন্ধ্যাকাশের সঙ্গে মিশে আমার কাছে মানবজীবনের গভীরতা থেকে উত্থিত জীবন্ত শব্দের গাছ বলে মনে হত। আমার অন্তরতব মনকে স্পর্শ করেছিল যে সূর্যালোক, তারি মধ্যে আমি আমার বাণীকে পেয়েছিলাম, এবং আকাশের পরিপূর্ণতা উপলব্ধি করেছিলাম। এই পূর্ণত আমাদের প্রাচীন ঋষিদের মতো আমার কাছে এই মন্ত্র উচ্চারণ করেছিল— ‘কোহ্যেবান্তাৎ, কঃ প্রাণ্যাৎ যদেষ আকাশ আনন্দে ন স্যাৎ । যদি আকাশ প্রেমে না পূর্ণ হত তবে এই জগতে কে চলতে পারত, লড়াই করত ও বেঁচে থাকতে পারত এই ভাবে আমি সংগ্রাম থেকে ফলের দিকে ফিরলাম, অপরের মঙ্গল করাব ইচ্ছা থেকে নিবৃত্ত হলাম, ও আমার অন্তগূঢ় প্রয়োজনের কাছে ফিরে এলাম। আমি অনুভব করলাম, সত্যেব মধ্যে একের জীবনধারণ হচ্ছে সকল জগতের মধ্যে জীবনধারণ । তখন বাইরের সংগ্রামেব অশান্ত পরিবেশ সরে গেল এবং সকল বস্তুর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত স্বষ্টির শক্তি আত্মপ্রকাশ করল। এখন পর্যন্ত আমাদের নানা প্রতিষ্ঠানের কাজে যা অগভীর ও ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়, তার জন্য দায়ী আত্মা সম্বন্ধে আমাদের মনের মধ্যে বিরাজিত У У о