পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সংশয়, আমাদের আত্ম-গুরুত্ব সম্বন্ধে চেতনা, আমাদের ব্যর্থতার জন্যে বাইরে কারণ সন্ধানের অভ্যাস, এবং আমাদের কর্মশৈথিল্য সংশোধনের জন্যে প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রয়াস । আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি যে যেখানে— বিশেষত অধ্যাত্মজীবনের ক্ষেত্রে অপরকে শিক্ষাদানের ব্যগ্রতা খুব প্রবল, সেখানে সামান্তই ফল পাওয়া যায় ; আর তা অসত্যমিশ্রিত Dআমাদের ধর্মীয় প্রত্যয় ও ব্যবহারের মধ্যেকার সকল ভণ্ডামি ও আত্মপ্রতারণা এসেছে গুরুগিরির অত্যুৎসাহী কর্মের উত্তেজনা থেকে । আমাদের আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেওয়া বা নেওয়া একই ব্যাপার ; যেমন, প্রদীপের ক্ষেত্রে নিজের অালো জ্বালানো ও অপরকে আলোকদান— একই ব্যাপার। যখন কোনো ব্যক্তি অপরের কাছে ঈশ্বরের মহিমা প্রচারকে বৃত্তিরূপে গ্রহণ করে, তখন সে যা সত্যের নির্দেশ দেবে, তার চেয়ে বেশি ধুলে উড়বে। ধর্মশিক্ষা কখনো পাঠ্যরূপে দেওয়া যায় না। ধর্মশিক্ষ সেখানেই পাওয়া যায় যেখানে ধৰ্ম জীবন্তরূপে বর্তমান । স্থতরাং আজকের দিনেও ঈশ্বর-সন্ধানীদের আরণ্য উপনিবেশ অধ্যাত্মজীবনের যথার্থ বিদ্যালয় বলে পরিগণিত হতে পারে। ধর্ম অংশত বিভক্ত বস্তু নয় । তা নির্ধারিত সাপ্তাহিক বা দৈনিক পরিমাপে বিদ্যালয়-পাঠ্যতালিকার নানা বিষয়ের মতো একটু একটু ক’রে দেওয়া যায় না। ধর্ম হল আমাদের সম্পূর্ণ সত্তার সত্য, অনন্তের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্বন্ধে চেতন । ধর্ম হচ্ছে আমাদের জীবনের মাধ্যাকর্ষণ-কেন্দ্র । যে স্থলে অধ্যাত্ম জগতের সত্য নানা প্রয়োজনের কৃত্রিম গুরুত্বের দ্বারা আবৃত হয় নি, সেই স্থলে বাল্যকাল থেকে নিত্য জীবনধারণের দ্বারা আমরা ধর্মকে লাভ করতে পারি। সেখানে জীবন সরল, অবকাশের পূর্ণতায় > S >