পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মণ্ডিত। সেখানে প্রচুর বিস্তার, বিশুদ্ধ বায়ু ও প্রকৃতির সুগভীর নিস্তব্ধতায় জীবন পূর্ণ। সেখানে মানুষের সামনে যে অনন্ত জীবন রয়েছে, তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেই মানুষ জীবনধারণ করে। [কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, আমি আমার আদর্শকে এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পেয়েছি কি না। আমার উত্তর হচ্ছে, আমাদের গভীরতম অাদর্শের রূপায়ণকে বাইরের পরিমাপ দ্বারা নির্ধারণ করা কঠিন । এই আদর্শের কাজকে তখনি ফলের দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না। মানবজীবনের নানা অসাম্য ও বৈচিত্র্যকে আমাদের আশ্রমে আমরা পূর্ণভাবে স্বীকার করেছি। মানবপ্রকৃতির নানা স্বাতন্ত্র্যকে উপড়ে ফেলে ও আশ্রমিকদের শিক্ষা দিয়ে একটা বাইরের সমতা লাভের চেষ্টা আমরা কখনো করি নি। আমাদের মধ্যে কিছু লোক ব্রাহ্মসমাজের অন্তভুক্ত, কিছু লোক হিন্দুধর্মের অন্যান্ত সম্প্রদায়ভুক্ত ; এবং আর কিছু লোক খ্রীস্টান । সাম্প্রদায়িক ধর্মবিশ্বাস ও মতবাদ নিয়ে আমরা কারবার করি না ব’লে আমাদের ধর্মবিশ্বাসের এই-সব বিরোধিতা আমাদের কোনো রকম অসুবিধায় ফেলে নি। আমি আরো জানি যে, এই আশ্রমে র্যারা একত্র হয়েছেন, এই স্থানের অাদর্শ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে র্তাদের শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার মধ্যে বহু পার্থক্য ও বিভেদ রয়েছে । আমি জানি যে এক উচ্চতর জীবনের জন্য আমাদের প্রেরণা জাগতিক বস্তু ও খ্যাতির লোভকে ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠতে পারে নি । তথাপি আমি নিশ্চিত যে আশ্রমের আদর্শ আমাদের স্বভাবের মধ্যে প্রতিদিন গভীর থেকে গভীরে পেচচ্ছে, এবং তার অসংখ্য প্রমাণও রয়েছে । [ আমাদের অজ্ঞাতে আমাদের জীবনের তারগুলি বিশুদ্ধতর অধ্যাত্ম সুরে বাধা হয়ে যাচ্ছে । এখানে আমার মূলে যে গোড়াকার উদ্দেশুই থাকুক না কেন, S છે ૨