পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমাদের সকল অনৈক্যের মধ্য দিয়ে আজ সেখানে বিরামহীন আহবান ধ্বনিত হচ্ছে। তা হচ্ছে শাস্তম, শিবম, অদ্বৈতম-এর আহবান। এখানে আকাশ অনন্তের কণ্ঠধ্বনিতে প্লাবিত হয়েছে, প্রত্যুষের শান্তি ও রাত্রির নৈঃশব্দ্য অর্থপূর্ণ ও গভীর হয়ে উঠছে, এবং শরতে শুভ্র শিউলি ফুল ও গ্রীষ্মে মালতী ফুলের মধ্য দিয়ে তা আত্মোৎসর্গের পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের বাণী প্রেরণ করছে। আরণ্য আশ্রয় “আশ্রম’ শব্দটিকে ঘিরে যে কত ভাবানুষঙ্গ রয়েছে, তা ভারতীয় ছাড়া আর কারোর পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন । কারণ ভারতবর্ষে এই আশ্রম সূর্যালোকের ও উজ্জল তারকামণ্ডলীর উদার দাক্ষিণ্যভরা আকাশের নীচে শতদলের মতো বিকশিত হয়েছিল। ভারতবর্ষের আবহাওয়া আমাদের কাছে উন্মুক্ত আকাশের আমন্ত্রণ নিয়ে এসেছে । তার বিশাল নদীগুলি স্রোতগুঞ্জনে ভাবগম্ভীর। ভারতের সমতলভূমির সীমাহীন বিস্তার আমাদের ঘরকে অন্য এক জগতের নৈঃশব্দ্যে ভরে রাখে । এই ভারতবর্ষে সবুজ পৃথিবীর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাতের পাদপীঠের প্রতি অদৃশ্বের অঞ্জলির মতো সূর্য উদিত হন, এবং দিনশেষে অনন্তের প্রতি প্রকৃতির প্রণামের উজ্জ্বল রঙীন অনুষ্ঠানের মতো পশ্চিম দিগন্তে অস্তমিত হন। ভারতবর্ষে তরুচ্ছায়া আতিথ্যে ভরা, ধরণীর ধূলি আমাদের প্রতি তার ধূসর বাহু বাড়িয়ে দিয়েছে, বাতাস আলিঙ্গনের দ্বারা আমাদের আতপমণ্ডিত করে। এই-সব অপরিবর্তনীয় তথ্য আমাদের মনে চিরকাল তাদের ইঙ্গিত প্রেরণ করে। আর সেই কারণে আমরা অনুভব করি যে জগতের আত্মার সঙ্গে মানব-আত্মার মিলনের মধ্য দিয়ে পরম-আত্মায় মানবাত্মার সত্য উপলব্ধি করা ভারতের জীবনের উদ্দেশ্য। প্রাচীনকালের আরণ্য বিদ্যালয়ে এই জীবনোদ্দেশ্য তার স্বভাব-রূপটি } } @