পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তার বাহন মারফত আমাদের প্রকৃতিতে প্রবেশ করেছে । তার ফলে আমরা কেবল শ্রান্ত হই না, তা আমাদের আনন্দও দেয় আমাদের জীবনের সঙ্গে এই অর্ধচেতন জ্ঞানবৃত্তি মিশে আছে এই জ্ঞানবৃত্তি বাইরে থেকে জ্বালা যায় ও পলতে ছেটে দেওয় যায় এমন লণ্ঠনের মতো নয় ; বরং তা আপন জীবন-প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত জোনাকির আলোর মতো । (সৌভাগ্যক্রমে আমি এমন এক পরিবারে জন্মেছিলাম যেখানে সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলা সহজাত প্রবৃত্তি হয়ে উঠেছিল। আমার ভাই ও আত্মীয়েরা নানা অাদর্শের স্বাধীনতায় বাস করত, এবং তাদের বেশির ভাগেরই স্বাভাবিক শিল্পক্ষমতা ছিল। এই পরিবেশে লালিত হবার ফলে আমি খুব গোড়া থেকেই চিন্ত৷ করতে, স্বপ্ন দেখতে ও আমার চিন্তাকে প্রকাশ করতে শুরু করলাম। ধর্মাচরণ ও সামাজিক আদশের ক্ষেত্রে আমাদের পরিবার সকল প্রথা থেকে মুক্ত ছিল। আর গোড়া বিশ্বাস ও প্রথা থেকে আমাদের বিচ্ছেদের ফলে সমাজ আমাদের একঘরে করেছিল। এই সমাজচ্যুতি মনের স্বাধীনতাক্ষেত্রে আমাদের নির্ভয় করে তুলেছিল, এবং জীবনের সব ক্ষেত্রেই আমরা নানা পরীক্ষা চালিয়েছিলাম। অামার বাল্যজীবনে মানসিক ও শিল্পগত বৃত্তিচর্চার স্বাধীনতা ও আনন্দ আমি ভোগ করেছিলাম। আর তার ফলে আমার মন তার বিকাশলাভের স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন হয়ে উঠেছিল। তাই বিদ্যালয়প্রথার উৎপীড়ন আমার পক্ষে এত অসহ্য হয়ে উঠেছিলリ যখন আমি আমার বিদ্যালয় স্থাপন করি, তখন কেবল আমার বাল্যজীবনের এই অভিজ্ঞতা সহায় ছিল । আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, শিক্ষাদানের কোনো মামুলি পদ্ধতি নয়, সংস্কৃতিময় > )む