পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিবেশই সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমার সৌভাগ্যক্রমে বিপুল সম্ভাবনাপূর্ণ একটি তরুণ ছাত্র সতীশচন্দ্র রায়কে পেলাম। তিনি তখন বি. এ. পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন । তিনি আমার বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হলেন ও আমার আদর্শকে রূপদানের জন্য তার জীবন উৎসর্গ করলেন । র্তার বয়স তখন সবেমাত্র উনিশ, কিন্তু তার একটি আশ্চর্য আত্মা ছিল । তিনি আদর্শের জগতে বাস করতেন। প্রকৃতিরাজ্যে ও মানবপ্রকৃতিতে যা-কিছু সুন্দর ও মহৎ, তাতে তিনি গভীরভাবে সাড়া দিতেন। যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তবে তিনি কবিরূপে বিশ্বসাহিত্যের অমর শিল্পীদের মধ্যে আসন গ্রহণ করতেন । কিন্তু যখন তার বয়স বিশ বছর, তখন তিনি মারা গেলেন, এবং এইভাবে সামান্য এক বছরের জন্য তিনি আমাদের বিদ্যালয়ের সেবা করে গেছেন । সতীশচন্দ্রের কাছে ছাত্রেরা কখনো অনুভব করে নি যে তারা অধ্যয়নের সংকীর্ণ গণ্ডীতে আবদ্ধ হয়ে আছে । ছাত্রেরা যেন সর্বত্র প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। যখন বসন্তকালে শালতরু পূর্ণমুঞ্জরিত হয়ে উঠত তখন ছাত্রেরা তার সঙ্গে শালবীথিতে যেত, আব তিনি উত্তেজনায় পরিপূর্ণ হয়ে তাদের কাছে তার প্রিয় কবিতাগুলি আবৃত্তি করতেন । তিনি ছাত্রদের শেকস্পীয়র এমনকি ব্রাউনি পড়াতেন, কারণ তিনি ব্রাউনিঙের বড়ো অনুরাগী ছিলেন । আর তার আশ্চর্য প্রকাশক্ষমতার জোরে ছাত্রদেব কাছে তিনি শেকস্পীয়র-ব্রাউনিঙের কাব্য বাংলা ভাষায় ব্যাখ্যা করতেন । ছেলেদের বোঝবার ক্ষমতাকে তিনি কখনো অবিশ্বাস করেন নি। তিনি নিজে যে বিষয়ে কৌতুহলী, সে বিষয়েই তিনি ছেলেদের কাছে বলতেন ও পড়তেন। সতীশচন্দ্র জানতেন যে ছেলেদের পক্ষে আক্ষরিকভাবে যথাযথরুপে বোঝবার কোনো > \s