পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রয়োজনই নেই, কিন্তু তাদের মনকে জাগ্রত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে তিনি সাফল্যলাভ করেছিলেন । তিনি অন্যান্ত শিক্ষকদের মতো নিছক পাঠ্যপুস্তকের বাহনমাত্র ছিলেন না । তনি শিক্ষাদানকে ব্যক্তিগত কৰ্ম বলে গ্রহণ করেছিলেন, তিনি নিজেই তার উৎস ছিলেন, ও সেই কারণে তাকে জীবনের মধ্যে গ্রহণ করেছিলেন ; আর তা জীবনশক্তিপূর্ণ মানবপ্রকৃতির অন্তভুক্ত হয়ে যায়। সতীশচন্দ্রের সাফল্যের আসল কারণ হল জীবনে, আদর্শে ও র্তার চারপাশের সব-কিছুতে র্তার গভীর ঔৎসুক্য, এবং তার সংস্পর্শে যে ছেলেরা আসত তাদের সম্পর্কে গভীর কৌতুহল। বইয়ের মাধ্যমে নয়, জগতের সঙ্গে তার সংবেদনশীল মনের প্রত্যক্ষ সংযোগের মাধ্যমে তিনি প্রেরণা লাভ করতেন । লতাপাতার উপরে ঋতু-প্রভাব যেমন ছিল, তার উপরে তেমনি ঋতু-প্রভাব ছিল। মহাশূন্যে সদা ভ্ৰাম্যমাণ, বাতার্সে ভাসমান, আকাশে দীপ্তিমান, ও পৃথিবীতে ঘাসে ঘাসে কম্পমান অদৃশ্য প্রকৃতিবাণীকে সতীশচন্দ্র তার রক্তের মধ্যে অনুভব করতেন। তিনি যে সাহিত্য পাঠ করতেন, তাতে গ্রন্থাগারের সামান্যতম গন্ধ ছিল না । যেমনভাবে তার বন্ধুদের দেখতেন, সেইভাবে তার আদর্শগুলিকে রূপস্বাতন্ত্রা ও জীবনের সূক্ষ্মদৰ্শিতা সমেত চোখের সামনে দেখবার ক্ষমতা সতীশচন্দ্রের ছিল । [আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রদের এই সৌভাগ্য হয়েছিল যে তারা পাঠ্যপুস্তক থেকে নয়, এক প্রাণবান শিক্ষকের কাছ থেকে তাদের পাঠ গ্রহণ করেছিল।7 অনেক আবশ্যকীয় জিনিসের মতোই কি বইগুলি জগৎ ও অর্মিীদের বাধা হয়ে দাড়িয়ে নেই ? আমাদের মনের বাতায়নকে বইয়ের পাতা দিয়ে ঢেকে দেবার অভ্যাস আমাদের গ্রাস করেছে, আর আমাদের মানসিক চামড়ার উপর » » ግ