পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেতাবী বাক্যের পলেস্তারা এটে বসেছে, তার ফলে তা সকল প্রত্যক্ষ সংযোগের বাইরে চলে গেছে। কেতাবী সত্যের পুরো জগৎ এক কঠিন দুর্গ গড়ে তুলেছে, আমরা তারই প্রাচীরের আড়ালে আশ্রয় নিয়েছি ও ঈশ্বরের স্বষ্টি থেকে নিজেদের নিরাপদ করে তুলেছি। অবশু, গ্রন্থচর্চার সুবিধাকে যথার্থ মূল্য না দেওয়াটা আমাদের পক্ষে বোকামি । কিন্তু সেই সঙ্গে আমরা অবশ্যই স্বীকার করব যে গ্রন্থচর্চার নানা বিধিনিষেধ ও বিপদ আছে । শিক্ষার গোড়াকার পর্যায়ে যেভাবেই হোক স্বাভাবিক পথে শিশুদের সত্যের শিক্ষালাভ করা উচিত— সে শিক্ষা সোজাসুজি নানা ব্যক্তি ও বস্তুর মধ্য দিয়ে আসবে। \ত্ৰই ব্যাপারে নিঃসংশয় হয়ে আশ্রমে ভাবের পরিবেশ রচনায় আমি আমার সমস্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়েছি । বিশেষ করে শিশুমনের জন্যই আমি গান রচনা করি নি। কবি র্তার আপন খুশিতে গান রচনা করেছেন। বস্তুতঃপক্ষে গীতাঞ্জলির বেশির ভাগ এখানেই রচিত হয়েছিল। এই-সব গান টাটকা অবস্থায় ছেলেদের কাছে গাওয়া হয়েছিল, এবং তারা দল বেঁধে এই-সব গান শিখতে আসত। অবসরসময়ে, পূর্ণিমারাত্রে খোলা আকাশের তলায়, শ্রাবণে আসন্ন-বর্ষণ মেঘের ছায়ায় বসে ছেলেরা দল বেঁধে গান গাইত। আমার পরবর্তীকালের সকল নাটক এখানেই রচিত হয়েছে, আর ছেলেবা তাদের অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের ঋতু-উৎসবের জন্য গীতিনাট্য রচিত হয়েছে। গদ্যে বা ছন্দে লেখা কোনো নতুন রচনা, তা যে বিষয়েই হোক-না কেন, আমি যখন শিক্ষকদের কাছে পড়ে শোনাতাম, তখন ছেলেরা সেখানে বিনাবাধায় হাজির হত। ছেলেরা বিনা চাপেই এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করত, আর তাতে আমন্ত্রিত না হলে বেদন $ Sbr