পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধ্যান এমন অনেক বস্তু আছে যা আমরা বাইরে থেকে পাই ও সম্পদ বলে আমাদের কাছে রেখে দিই। কিন্তু ধ্যানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ঠিক উল্টো । তা হল কোনো মহৎ সত্যের মধ্যে আমাদের এমনভাবে প্রবেশ ঘটে যে পরিণতিতে তা আমাদের অধিকার করে | এখন বিপরীত তুলনায় দেখা যাক, সম্পদ কী। অর্থ শ্রমের প্রতিনিধি। অর্থের দ্বারা আমি মানুষ থেকে শ্রমকে বিচ্ছিন্ন ক’রে নিতে পারি ও তাকে আমার নিজস্ব সম্পদ করে তুলতে পারি। আমি তা বাইরের থেকে পাই ও তাকে আমার অাপন ক্ষমতায় রূপান্তরিত করি । তা ছাড়া আছে জ্ঞান। এক ধরণের জ্ঞান আছে যা আমরা অপর ব্যক্তি থেকে পাই । আর-এক ধরণের জ্ঞান আছে যা আমর পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও যুক্তির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করি। যা আমার থেকে দূরে অাছে তাকে আমার নিজস্ব বলে আয়ত্ত করার জন্যই এই সমস্ত প্রয়াস। এই-সব বস্তুতে আমাদের মানসিক ও শারীরিক শক্তি এমনভাবে প্রযুক্ত হয়, যা ধ্যানের ঠিক বিপরীত । (সর্বোচ্চ সত্যকে কেবল তার মধ্যে ডুবে গিয়ে আমরা উপলব্ধি করতে পারি। আর যখন আমাদের চেতনা তার মধ্যে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়, তখন আমরা জানতে পারি তা নিছক অধিকার নয়, পরন্তু আমরা এই সত্যের সঙ্গে এক হয়ে গেছি। এইভাবে ধ্যানের মধ্য দিয়ে আমাদের আত্মা যখন মহান সত্যের যথার্থ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন আমাদের সকল কর্ম, 〉ミ\○