পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করতে হবে, এবং তারপর বলতে হবে, ঈশ্বর তার অনন্ত স্বজনীশক্তির বলে নিরস্তর প্রতি মুহুর্তে এই জগতকে স্বষ্টি করছেন, ত৷ একটি বিচ্ছিন্ন ক্রিয়ার ফল নয়। সব-কিছুই স্থষ্টিকর্তার অনন্ত ইচ্ছার প্রতিনিধি। তা মাধ্যাকর্ষণের সূত্রের মতো নয় ; আমি যাকে অর্চনা করতে পারি না অথবা যা আমার পূজা দাবি করতে পারে না, এমন বিমূর্ত বস্তুমাত্র নয়। কিন্তু এই মন্ত্র বলেছেন যে এই শক্তি পূজনীয়, তা এক মহান পুরুষের শক্তিবলে আমাদের পূজা দাবি করে। তাই এই শক্তি নিছক বিমূর্ততা নয়। এই শক্তির প্রকাশ কী ? এই শক্তি এক দিকে পৃথিবী, আকাশ ও নক্ষত্ৰশোভিত গগন ; অপর দিকে তা আমাদের চেতন । [আমার সঙ্গে জগতের চিরন্তন সম্পর্ক রয়েছে, কারণ আমার চেতনায় এই জগতের অপর দিকটি রয়েছে। যদি তার উৎস ও কেন্দ্রে কোনো মহান চেতনা ও চেতনসত্তা না থাকত, তবে জগতের সৃষ্টি হত না । ঈশ্বরের শক্তি আমার চেতনায় ও বাহির বিশ্বে নিঃসৃত ও প্রবাহিত হয় । সাধারণতঃ আমরা নিজেরাই একে বিভক্ত করি । কিন্তু সত্যি বলতে কি স্বষ্টির এই দুটি দিক অন্তরঙ্গ সম্পর্কে আবদ্ধ, কারণ তারা একই উৎস থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এইভাবেই এই ধ্যানের অর্থ হচ্ছে, আমার চেতনা ও আমার বাইরে বিশাল জগৎ এক । এই ঐক্য কোথায় ? ঐক্য রয়েছে মহা শক্তিতে । তিনি আমার মধ্যে ও অামার বাইরেকার জগতে চেতনাকে প্রবাহিত করেন 7 এই ধ্যানের অর্থ আমাতে কিছু গ্রহণ করা নয়, আমাকে

  • 6t