পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু এই সত্য এখনো পর্যন্ত আমাদের জীবনে উপলব্ধ হয় নি, আর সেই কারণেই আমাদের এত অপূর্ণতা, দুঃখযন্ত্রণা ও পাপ রয়েছে । সুতরাং আমরা প্রার্থনা করি, আমরা যেন আমাদের চেতনায় এই সত্যকে উপলব্ধি করতে পারি, এবং তাই আমরা প্রার্থনা করি আমরা যেন তা করতে সমর্থ হই । তারপর ‘নমস্তে’ বলে মন্ত্রটি শেষ হচ্ছে । আমার নমঃ’ যেন সত্য হয়। কারণ এই নমঃ" হচ্ছে সত্য দৃষ্টিভঙ্গী। যখন আমি ‘পিতা নোহসি এই সত্যকে সম্পূর্ণ উপলব্ধি করি, তখনি আমার জীবন তার আপন সত্যকে তার ‘নমঃ’, তাব মিনতি, তার আত্মসমর্পণের দ্বার। দেবাচনার বিনীত অনুভূতিতে ব্যক্ত করে। আমাদের প্রার্থনায় আমরা অনেক তৃপ্তিদায়ী শব্দ ব্যবহার করি। কোনো কোনো সময় আমরা কেবল যান্ত্রিকভাবেই তা উচ্চারণ করি এবং তার পূর্ণতার উপলব্ধিতে আমাদের সমস্ত মনকে প্রয়োগ করি না । ‘পিতা’ এই ধরণের একটি শব্দ । সুতরাং আমাদের ধ্যানে মন্ত্রকে আরো গভীরভাবে বুঝতে হবে ও হৃদয়ের মধ্যে তার সত্যের সঙ্গে উপলব্ধি করতে হবে । এই জগৎ যে রূপে আমাদের সামনে আইনের মাধ্যমে দেখা দেয়, সে রূপে আমরা জগৎকে গ্রহণ করতে পারি। আমাদের মনের মধ্যে জগৎ সম্পর্কে এই ধারণা গড়ে তুলতে পারি যে এই জগৎ হল শক্তি ও পদার্থের জগৎ । তারপরে এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিছক যান্ত্রিক সম্পর্ক হয়ে দাড়ায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আমবা মানুষের মধ্যে যে সর্বোচ্চ সত্য অাছে, তাকে হারাই । কারণ মানুষ কী ? মানুষ হচ্ছে ব্যক্তিগত সত্তা। আইন সে পরিচয়কে গ্রাহ করে না। আমাদের শারীরিক জ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও আমাদের সত্তার › : ግ