পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যান্ত্রিকতা নিয়েই আইনের কারবার। যখন আমরা আমাদের ব্যক্তিগত স্বভাবের ক্ষেত্রে আসি, তখন কোনো আইনের দ্বারা তাকে ব্যাখ্যা করা যায় বলে আমাদের জানা নেই। সুতরাং আমাদের সম্পর্কে সত্যের মূল ভিত্তিকেই বিজ্ঞান অগ্রাহ করে। তার ফলে সমগ্র জগৎ একটা যন্ত্রে পরিণত হয়, এবং তখন স্থষ্টিকর্তাকে পিতারূপে দেখার কোনো প্রশ্নই ওঠে না ; আমরা ভারতীয়েরা যে তাকে ‘জননী’ বলে ডাকি, সেভাবে ডাকারও কোনো প্রশ্ন ওঠে না । যদি আমরা এই জগৎকে নিছক শক্তির যোগফল রূপে দেখি, তবে তার পূজা করার প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু আমরা নিছক শারীরিক বস্তু বা মনোবিশ্লেষণের বস্তু নই। আমরা নর ও নারী। আর আমরা যে মানুষ, সমগ্র বিশ্বে তার অনন্ত অর্থটি আমাদের খুজে বার করতেই হবে । আমার শরীর যে রয়েছে, বিজ্ঞান তা বিশ্বগত নিয়মের দ্বারা ব্যাখ্যা করে । তার ফলে আমি আমার শরীরকে সৃষ্টির এক বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করি না, বরং একটি বিশাল সমগ্রের অংশরূপে দেখি । তখন আমি দেখি, এমন-কি আমার মন, বিশ্বে যা ঘটছে তার সঙ্গে ঐক্য রেখে চিন্তা করছে । আর তখন আমি আমার মনের সাহায্যে বিশ্বনিয়ন্ত্রণকারী মহান নিয়মগুলিকে খুজে পাই । কিন্তু বিজ্ঞান আমাকে সেখানেই থেমে যেতে বলে । কারণ বিজ্ঞানের কাছে শরীর ও মনের নিয়মগুলি বিশ্বের পটভূমিতে ধরা পড়ে, কিন্তু ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি নেই। কিন্তু আমরা অনুভব করি যে আমরা এই মতকে গ্রহণ করতে পারি না । কারণ যদি সব-কিছুর মতোই সত্যের সঙ্গে এই ব্যক্তিত্বের চিরন্তন সম্পর্ক না থাকে, তবে তা কোন অলীক কল্পনা ? এই জগতে ব্যক্তিত্ব কেন এবং কী Ꮌ Rbr