পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্তরে রয়েছে এই ব্যক্তিগত মানুষ । আপন ব্যক্তিত্বকে খুশি করার জন্য সে এই বিশ্বের সংস্পর্শে আসে । বিজ্ঞানের জগৎ বাস্তবের জগৎ নয়। এ হল শক্তিজগতের এক অমূর্ত প্রকাশ। আমাদের মনীষার সাহায্যে আমরা একে ব্যবহার করতে পারি, কিন্তু ব্যক্তিত্বের সহায়তায় আমরা এই জগৎকে প্রত্যক্ষ করতে পারি না। এ যেন এক বাক যন্ত্রবিদ, ব্যক্তিরূপে এরা আমাদের জন্য নানা বস্তু উৎপাদন করছে বটে, কিন্তু আমাদের কাছে এরা নিছক ছায়া মাত্র রয়ে গেছে । কিন্তু আর একটি জগৎ আছে যা আমাদের কাছে প্রত্যক্ষ। এই জগৎকে আমরা দেখি, অনুভব করি ও আমাদের সব অনুভূতি দিয়ে আমরা এর সঙ্গে আদানপ্রদান করি । এর রহস্য অন্তহীন কেননা আমরা একে বিশ্লেষণ বা পরিমাণ— কিছুই করতে পারি না। আমরা কেবল বলতে পারি, এই তো তুমি এখানেই। এই জগৎ থেকে বিজ্ঞান মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর এখানে আর্ট আপন স্থান গ্রহণ করে) আর আর্ট কী, যদি আমরা এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারি তবে আমরা জানতে পারব আর্টের সঙ্গে যার এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সেই জগৎটাই বা কী। এই প্রশ্ন যেরকম গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আসলে সেরকম নয়। কেননা আর্ট জীবনের মতোই আপন প্রাণাবেগে গড়ে উঠেছে এবং মানুষ আর্টের স্বরূপ ঠিকমত না জেনেই এর থেকে আনন্দ লাভ করেছে। আর আমরা পরম নিশ্চিন্তে একে চেতনার সেই তলদেশে রেখে দিতে পারতুম, যেখানে অন্ধকারে জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা বস্তু লালিত হচ্ছে, পুষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমরা এমন এক যুগে বাস করি যে সময় আমাদের এই পৃথিবীকে ভেতরে বাইরে ওলটপালট করা হচ্ছে এবং তার তল ॐ