পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভাবে বর্তমান ? আমি-ব্যক্তির তথ্য অবশ্যই অনন্ত-ব্যক্তির সত্যের দ্বারা সমর্থিত হবে। আমাদের মধ্যে ‘আমি এই সত্যের প্রত্যক্ষ দর্শন থেকে আমরা এই মহৎ সত্যে উপনীত হয়েছি যে অবশ্যই এক অনন্ত “আমি” আছেন । তখন প্রশ্ন ওঠে— ‘এই মহান ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক ? অন্তরের অন্তবে মানুষ এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছে, এই সম্পর্ক হচ্ছে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক— ভালোবাসার সম্পর্ক। এই উত্তরের অন্যথা হতে পারে না, কারণ সম্পর্ক তখনই পূর্ণত। লাভ করে যখন তা ভালোবাসার সম্পর্ক হয় । রাজা ও প্রজার সম্পর্ক, প্রভু ও ভূত্যের সম্পর্ক, আইনকারী ও আইন-পালনকারীর সম্পর্ক— এ-সবই হল বিশেষ ব্যবহারের জন্য আংশিক সম্পর্ক । সমগ্র সত্তা এখানে জড়িত নয়। কিন্তু অনন্ত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই ব্যক্তি ‘আমি-র পূর্ণতম সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন । তার অন্যথা হতে পারে না । আমরা ভালে।বেসেছি ও ভালোবাসার মধ্যে আমাদের ব্যক্তিত্বেব অনন্ত তৃপ্তি লাভ কবেছি ব’লে আমরা জানতে পেরেছি যে অনন্ত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হল ভালোবাসাব সম্পর্ক। আর এইভাবেই মানুষ বলতে শিখেছে— আমাদের পিতা ; রাজা নয়, প্রভু নয়, পিতা । বক্তব্য এই, তার মধ্যে এমন কিছু অাছে আমরা যার অংশভাগী ; তা হল এই অনন্ত ব্যক্তি ও এই সান্ত ক্ষুদ্র ব্যক্তির মধ্যে ঐক্যবিধায়ী সম্পর্ক । তথাপি প্রশ্ন থেকে যায়— মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রকাশ যে শব্দ ‘পিতা, তা আমি কেন ব্যবহার কবব ? আমর অন্য-একটি শব্দ আবিষ্কার করতে পারি না কেন ? এই শব্দটি কি খুব সান্ত ও ক্ষুদ্র নয় ? o ১২৯