পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেন্দ্র হোক— সমগ্র বিশ্বের নিয়ন্ত যে মহান ব্যক্তি, তিনি আমার পিতা এ ‘পিতা নো বোধি’ । আমি যেন এই মহান সত্যের আলোয় জেগে উঠি– তুমি আমার পিতা । উলঙ্গ শিশুর মতো আমার সকল চিন্তা তোমার কোলে তোমার যত্ন ও আশ্রয়ে সারা দিনের জন্তে আমাকে রাখতে দাও। আর তার পরে “নমঃ’ । আমার পূর্ণ আত্মসমর্পণ সত্য হয়ে উঠবে। এই হল মানুষের ভালোবাসার সর্বোচ্চ আনন্দ । ‘নমস্তে’ । তোমাকে ‘নমঃ’ । তা যেন সত্য হয় । অনন্ত ‘আমি আছি’-র সঙ্গে আমি সম্পর্কিত, আর তাই আমার সত্য মনোভাব, গর্ব বা আত্মতুষ্টির মনোভাব নয়, তা হল অত্মসমর্পণের মনোভাব । ‘নমস্তেহস্ত’ । আমার ছেলেরা তাদের প্রার্থনা ও ধ্যানে যে মন্ত্রটি ব্যবহার করে, তা আমি এখনো শেষ করি নি । আপনার নিশ্চয়ই স্মরণ করবেন যে এই প্রার্থনা আমাদের প্রাচীনতম শাস্ত্র বেদের নানা অংশ থেকে সংগৃহীত হয়েছে। একটি জায়গায় একটি ক্রমপরম্পরায় তাদের পাওয়া যাবে না। ঈশ্বর-আরাধনায় সমৰ্পিত-জীবন আমার পিতৃদেব অফুরন্ত জ্ঞানের অমর ভাণ্ডার বেদ ও উপনিষদ থেকে এই মন্ত্রগুলি সংগ্ৰহ করেছিলেন । পরের চরণটি হচ্ছে— মা মা হিংসীঃ । আমাকে মৃত্যুর দ্বারা আঘাত কোরো না । এই কথার অর্থ কি তা আমাদের সম্পূর্ণরূপে বুঝতে হবে। আপনারা আমাকে বলতে শুনেছেন যে, প্রথম চরণে বলা হয়েছে, >Wう〉