পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তুমি আমার পিতা । এই সত্য সর্বত্র বর্তমান। ‘পিতা'র মহান ভাবের মধ্যে আমাদের জন্মাতে হয় । তা মানুষের উদ্দেশ্য ও পরিণতি, সেখানেই তার জীবনের পরিপূর্ণতা। যদিও এ কথা সত্য যে আমরা আমাদের ‘পিতা’র সঙ্গে চিরন্তন সম্পর্কে আবদ্ধ, তথাপি এই সত্যের পূর্ণ উপলব্ধির পথে কিছু বাধা আছে, এবং সেই বাধাই মানুষের দুঃখের বৃহত্তম উৎস। পশুদের বেদনা আছে, তার শত্রুর আক্রমণে ও শারীরিক অপূর্ণতায় যন্ত্রণা ভোগ করে। আর এই দুঃখযন্ত্রণ তাদের প্রাকৃতিক জীবনের অভাব মোচনে ও এই-সব বাধার বিরুদ্ধে সংগ্রামে এগিয়ে যেতে তাড়না করে । এই সংগ্রামের মধ্যেই আনন্দ রয়েছে।) আমরা নিশ্চিত ভাবতে পাি র যে তারা সত্যি তাদের জীবনকে উপভোগ করে, কারণ এই বোকের ফলে পশুর বাধার বিরুদ্ধে লড়াই করে, এবং তা তাদের সমগ্র জীবনশক্তিকে জাগিয়ে তোলে। অন্ত্যথায় পশুরা গাছপালার জগতের মতোই ব্যবহার করত । (জীবনের পূর্ণতার জন্যই বাধা থাকা আবশ্বক ) আর জড়বস্তুর বাধার বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রামের দ্বারাই জীবন তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা উপলব্ধি করে। পশুর কাছে এই-সব বাধা বেদনানুভূতির সঙ্গেই দেখা দেয়। (কিন্তু মানুষের কাছে আর-এক গভীরতব দুঃখের উৎস আছে। আমাদেরও জীবিকা অন্বেষণ করতে হয় এবং প্রকৃতি ও মানুষের শক্রতাকে রোধ করতে হয় । কিন্তু তাই সব নয়। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, পশুদের মতো একই জগতে জন্মগ্রহণ করে ও একই জীবন-প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে, মানুষকে আরও অন্ত-কিছুর জন্য লড়াই করতে হয়, যদিও স্পষ্টরূপে তাকে উপলব্ধি করা যায় নি। এই অন্ত্য-কিছু আমাদের কাছে আভাসে দেখা দেয় ।

  • ○R