পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যখন আমরা সম্পদের মধ্যে বাস করি, প্রাচুর্য বিলাস ও স্বাচ্ছন্দ্যে নিমগ্ন হই, সকল জাগতিক বস্তুর দ্বারা বেষ্টিত হই, তখনো মানুষ অনুভব করে এই-সব বস্তু যথেষ্ট নয়। আর তখনি বায়ু ও অগ্নির মতো কোনো প্রাকৃতিক শক্তির কাছে নয়, যাকে মানুষ পরিপূর্ণভাবে জানে নি বা উপলব্ধি করে নি, সেই সত্তার প্রতি প্রার্থনা ধ্বনিত হয়ে ওঠে । এই প্রার্থনা বলে ; আমাকে রক্ষা করো— ‘ম। মা হিংসীঃ' ) (আমরা এখানে শারীরিক মৃত্যুর কথা বলছি না, কারণ আমরা জানি আমাদের মরতেই হবে। সুতরাং আমাদের ‘পিতা'র কাছে প্রার্থনা শারীরিক অমরতার জন্তে নয়। মানুষ সহজাত প্রবৃত্তি -বশে নিজের মধ্যে অনুভব করেছে যে এই জীবন চূড়ান্ত নয়— তাকে উচ্চতর জীবনের জন্যে সাধনা করতে হবে। আর সেখানেই ঈশ্বরের কাছে মানুষের কাতর প্রার্থনা— আমাকে এই মৃত্যুর রাজ্যে ফেলে রেখো না । তা আমার আত্মাকে তৃপ্ত করে না । আমি খাই দাই, ঘুমোই, কিন্তু আমি সন্তুষ্ট নই। আমি এর মধ্যে আমার কল্যাণ দেখি না— আমি উপবাস করি । মা তার অাপন জীবন থেকেই শিশুকে যে দুধ দেয় তার জন্য শিশু যেমন র্কাদে, সেই রকম আমরাও চিরন্তন জননীর কাছে কেঁদে বলি– ‘আমাকে মৃত্যুর দ্বারা আঘাত কোরে না’, ‘মামা হিংসী?— আমাকে তোমার আপন প্রকৃতি থেকে উৎসারিত জীবন দাও । এই হল ক্ৰন্দন— আমি ক্ষুধায় কাতর হয়েছি। আমার আত্মা তার পরিবেশের মধ্যে কোনো আহারদ্রব্য পাচ্ছে না বলে তা মৃত্যুর দ্বারা আহত হচ্ছে D ‘বিশ্বানি দেব সবিতুষ্টুরিতানি পরাস্তুব।’ হে ঈশ্বর, আমার পিতা, আমার থেকে পাপের জগৎকে দূর করে । যখন ব্যক্তিস্বার্থের জীবন তার নিজের জন্য সব-কিছু 〉Vが○