পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পেতে চায়, তখন তা আঘাতের পর আঘাত পায়। কারণ ত৷ অস্বাভাবিক, কারণ তার সত্য জীবন মুক্তির জীবন, কারণ তা বন্দীখাচায় তার ডানা ঝাপটায়। আত্মার কাছে এই বন্দীশালা অর্থহীন। আত্মা তার বন্দীশালায় কাতর ক্ৰন্দন করে— আমি আমার পরিপূর্ণতাকে পাচ্ছি না। আত্মা বন্দীশালার রুদ্ধদ্বারে নিজেকে আঘাত করে। আর এই আঘাত ও বেদনায় আমাদের আত্মা পূর্ণ সচেতন হয়ে ওঠে যে সত্য স্বার্থবদ্ধ জীবনের সত্য নয়, তা আত্মার বৃহত্তর জীবনের সত্য। এই জ্ঞান থেকেই আমাদের দুঃখ আসে, আর আমরা বলে উঠি : ‘এই বন্দীশালা ভেঙে ফেলো । আমি এই স্বার্থবদ্ধ জীবনকে চাই না। সকল পাপ, স্বার্থীক জক্ষা, স্বার্থের গোপন অভিলাষ বিনষ্ট করো, আর আমাকে তোমার সন্তানরূপে গ্রহণ করো— এই মৃত্যুর জগতের সন্তানরূপে নয়, আপন সন্তানরূপেই গ্রহণ করে। ’ আমার ‘পিতা’র মধ্যে জীবনের পূর্ণ চেতনা যখন আমরা উপলব্ধি করতে চাই, তখন এই প্রার্থনা আমরা উচ্চারণ করি । সব চেয়ে বড়ো বাধা স্বার্থবদ্ধ জীবন । সুতরাং ঈশ্বরের কাছে মানুষের প্রার্থনা জাগতিক বস্তুর জন্তে নয় ; ‘পিতা’ব সঙ্গে পূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই প্রার্থনা । “যদুভদ্রম তন্ন আস্থব | যা কল্যাণকর তা-ই আমাদের দাও। আমরা প্রায়ই এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করি এবং আমাদের পিতাকে যা কল্যণকর তা-ই আমাদের দিতে বলি । কিন্তু আমরা জানি না যে যদি এই প্রার্থনার সম্পূর্ণ উত্তর আমাদের গ্রহণ করতে হয়, তবে তা কী ভযংকর প্রার্থনা হয়ে ওঠে। আমাদের মধ্যে খুব কম ব্যাক্তিই আছেন সর্বোচ্চ কল্যাণকে উপলব্ধি ক’রে যারা ত৷ চাইতে পারেন। কেবল তিনিই তা করতে পারেন— যিনি তার >Wつ8