পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারী যখন পুরুষ-প্রাণীরা একে অপরকে হননে লিপ্ত হয়, তখন প্রকৃতি তা দেখেও দেখে না। কারণ তুলনাত্মক বিচারে নারী প্রকৃতির উদ্দেশ্বের সহায়ক, আর পুরুষ নিতান্ত প্রয়োজনের উপাদান। সাবধানী স্বভাবের জন্যে স্ত্রী-প্রাণী যে-সব ক্ষুধাত শাবক কলহ করে, প্রচুর খায় অথচ প্রকৃতির দাবি সামান্তই মেটায়, তাদের বিশেষ যত্ন করে না । সুতরাং কীটপতঙ্গের জগতে আমর। লক্ষ্য করি যে, পুরুষ-পতঙ্গের সংখ্যাকে নিতান্ত প্রয়োজনের সীমার মধ্যে বেঁধে রাখার দায়িত্ব স্ত্রী-পতঙ্গ গ্রহণ করেছে। প্রকৃতির প্রতি আপন দায়িত্ব থেকে পুরুষ অনেকট। পরিমাণে মুক্ত। তার ফলে মানব-জগতে পুরুষদের আপন বৃত্তি ও কর্মোদ্যোগের স্বাধীনতা আছে । মানুষের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এই যে, মানুষ একটি হাতিয়ার-প্রস্তুতকারী পশু। এই কাজটা প্রকৃতির এক্তিয়ারের বাইরে। বস্তুতঃ, আমাদের এই হাতিয়ার তৈরি করার ক্ষমতার জোরে আমরা প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করতে সমর্থ হয়েছি। পুরুষমানুষের কর্মক্ষমতা বেশির ভাগ মুক্ত হবার ফলে, সে এই ক্ষমতাকে বাড়িয়েছে ও বেশ শক্তিমান হয়ে উঠেছে। তাই নারী মানবসমাজের প্রাণ-সৃষ্টি বিভাগে তার প্রকৃতিদত্ত সিংহাসন অদ্যাবধি অধিকার করে আছে। কিন্তু পুরুষ মানসিক বিভাগে আপন রাজ্য সৃষ্টি করেছে ও তাকে বাড়িয়েছে। এই মহৎ কর্মে মনের নিরাসক্তি ও চলাফেরার স্বাধীনতা অবশ্যক। শারীরিক ও মানসিক আবেগের বন্ধন থেকে পুরুষ অপেক্ষাকৃত মুক্ত। পুরুষ এই মুক্তির সুবিধাটা গ্রহণ করেছে ও জীবনের সীমান্ত বিস্তারের কাজে বাধামুক্ত হয়ে দৃঢ় পদে এগিয়ে গেছে। ר ס\ל