পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেশে যা-কিছু অাছে তাকে উপরিভাগে টেনে আনা হচ্ছে । আমাদের এই জীবনযাত্রা হচ্ছে একটি অবচেতন প্রক্রিয়া। তাকে আমরা আমাদের জ্ঞানের দ্বারা পরীক্ষা না করে ছাড়ছি না যদিচ এই জানার অর্থ হচ্ছে, আমাদের গবেষণার বস্তুকে হত্যা করা এবং তাকে জাদুঘরের দ্রষ্টব্য বস্তু কবে তোলার নামান্তর। প্রশ্ন উঠেছে, আর্ট কী ? বিভিন্ন ব্যক্তি নানা উত্তর দিয়েছেন এই প্রশ্নের । আমাদের স্বষ্টিশক্তি ও উপভোগের ক্ষমতা— উভয়ই স্বতঃস্ফূর্ত ও অর্ধচেতন।2এই ধরণের আলোচনা সেই স্বতঃস্ফর্তির ও অর্ধচেতনাব জগতে সচেতন উদ্দেশু আমদানি করে। শিল্পবস্তু-বিচারের ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করাব জন্য এই-সব আলোচনা অতি-নির্দিষ্ট পরিমাণ সরববাহ করতে চায়। তার ফলে বহু শতাব্দী ধরে যে আমব শিল্পীদেব নিঃসংশয প্রাধান্ত রয়েছে, তাদের সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেবাব জন্যে আধুনিককালের শিল্প-ৰিচাবকদেব নিজস্ব আইনানুযায়ী রায় দিতে আমব দেখেছি। শিল্প-সমালোচনার জগতে এই আবহাওয়া-জনিত বিশৃঙ্খলার উৎস হচ্ছে প্রতীচ্য জগৎ । সেখান থেকে এই দুর্যোগ আমাদের বাংলা দেশের তটভূমিতে এসে পৌছেছে, আর যেখানে নির্মল আকাশ ছিল সেখানে নিয়ে এসেছে কুয়াশা ও মেঘ। আমরা নিজেদেরকে প্রশ্ন কবতে শুরু করেছি— শিল্পস্থষ্টিগুলি কী ভাবে বিচারিত হবে ? তাদের বিচার কি হবে সর্বত্র উপলব্ধ হবার যোগ্যতার দ্বারা, অথবা জীবনের দার্শনিক ব্যাখ্যানের দ্বারা, অথবা দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানের উপযোগিতার দ্বারা, অথবা শিল্পী যে সমাজের অন্তভুক্ত সে সমাজের বৈশিষ্ট্যসূচক কোনো কিছুকে রূপদানের যোগ্যতার দ্বারা ? সুতরাং যা শিল্পের অন্তর্গত নয় এমন কিছুর দ্বারা শিল্পমূল্যের পরিমাণ স্থির করতে যখন \)