পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছে । তা গাছকে জীবনধারণে সাহায্য করে । আমাদের সভ্যতারও নিশ্চেষ্ট উপাদান নিশ্চয়ই আছে— তা প্রশস্ত, গভীর ও স্থায়ী। তা কেবল নিছক বৃদ্ধি নয়, বৃদ্ধির ঐক্য । তার সবটাই কেবল সুর নয়, তার সময়ও নিশ্চয়ই আছে। এই সময় বাধা নয়, তা হল নদীর পাড়। এই পাড় স্রোতোধারাকে স্থায়িত্বের পথে নিয়ন্ত্রিত করে । অন্যথায় তা নিরাকারের জলায় নিজেকে হারিয়ে ফেলত। তা হল ছন্দ । এই ছন্দ জগতের গতিকে রুদ্ধ করে না, বরং তাকে সত্য ও সৌন্দর্যের পথে চালনা করে। সতীত্ব, কোমলতা, একনিষ্ঠতা, আত্মোৎসর্গের ক্ষমতা প্রভৃতি নিশ্চেষ্ট গুণে নারী পুরুষ অপেক্ষা বেশি পরিমাণে সমৃদ্ধ। প্রকৃতিতে এই ধীর নিশ্চেষ্ট গুণ হিংস্ৰ শক্তিকে নিখুত সৌন্দর্যসৃষ্টিতে পরিণত করে— বন্য উপাদানগুলিকে পোষ মানিয়ে জীবনের সেবার উপযোগী সূক্ষ্ম কোমলতায় পরিণত করে। এই নিশ্চেষ্ট্র গুণ নারীকে দিয়েছে বিশাল গভীর প্রশান্তি । জীবনের লালন-পালন সঞ্চয়-নিরাময়ে এই প্রশান্তি খুবই প্রয়োজনীয়। যদি জীবনে সবটাই খরচ হত, তবে তা রকেটের মতো উর্ধ্বকাশে বিদ্যুতের গতিতে ছুটে যেত ও পরমুহুর্তেই ছাই হয়ে যেত। জীবন হওয়া উচিত একটি প্রদীপের মতো । অগ্নিশিখায় আলোকের যে শক্তি দেখা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি পৰিমাণ শক্তি প্রদীপের আছে। নারী-প্রকৃতির নিশ্চেষ্টতার গভীরে জীবনের এই শক্তি সঞ্চিত আছে। আমি অন্যত্র বলেছি, পশ্চিমী জগতের নারীদের মধ্যে একট। অধীরতা লক্ষ্য করা যায়। তা তার প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিচয় নয়। কারণ যে-সব নারী তাদের ঔৎসুক্য জাগিয়ে রাখতে চারপাশে বিশেষ উত্তেজক কিছু চায়, তার থেকে কেবল প্রমাণ 为8●