পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হয় যে, এই-সব নারী তাদের সত্য জগৎ থেকে বিচু্যত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে পশ্চিমী জগতে বহু নারী ও পুরুষ যা নিতান্তই সাধারণ বস্তু, তার নিন্দ করে। তারা সর্বদাই অসাধারণ কিছুর পিছনে ছুটেছে, এবং একটা কৃত্রিম মৌলিকতা তৈরি করতে সব শক্তি নিয়োগ করছে ; কিন্তু তা কেবল বিস্ময় সৃষ্টি করে, মানুষকে তৃপ্তি দেয় না। এই-সব প্রয়াস জীবনীশক্তির যথার্থ ইঙ্গিত নয়। আর সেগুলি পুরুষ অপেক্ষা নারীর পক্ষে বেশি ক্ষতিকারক। কারণ পুরুষ অপেক্ষ নারীর মধ্যে জীবনীশক্তি প্রবলতর রূপে বর্তমান । নারী মানবজাতির জননী । তাদের চার দিকে যে-সব বস্তু রয়েছে, জীবনের যে-সব সাধারণ বস্তু আছে, সে-সব সম্পর্কে নারীদের সত্যিকারের আগ্রহ বর্তমান । যদি নারীদের এই আগ্রহ না থাকত, তা হলে মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যেত । যদি নিবন্তর বাহ্যিক উত্তেজনার ফলে নারী কোনো মানসিক ওষুধ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যায় ও অবিচ্ছিন্ন ইন্দ্রিয়-উত্তেজনায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তবে নারী তার স্বাভাবিক উচ্চ অনুভূতিপ্রবণতা হারিয়ে ফেলে, এবং সেই সঙ্গে নারীত্বের প্রস্ফুটিত সৌন্দর্য ও মানবজাতিকে বাচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা থেকে চু্যত হয় | সঙ্গীদের সম্পর্কে কোনো পুরুষের ঔৎসুক্য তখনি সত্য হয়ে ওঠে যখন সে তাদের মধ্যে কোনো বিশেষ ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা খুজে পায়। কিন্তু কোনো নারী তার সঙ্গিনীদের সম্বন্ধে আগ্রহী হয় এই কারণে যে তারা জীবন্ত প্রাণী, তারা মানবিক গুণসম্পন্ন। তারা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করে বা তাদের এমন কোনো ক্ষমতা আছে যা বিশেষ প্রশংসার যোগ্য,— সে কারণে কোনো নারী তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। নারীর এই বিশেষ ক্ষমতা S 8 ×