পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছে বলে সে আমাদের মনের উপর মুগ্ধ প্রভাব বিস্তার করে তার জীবনাগ্রহের প্রাচুর্য এতই আকর্ষক যে তা নারীর কথা, হাসি, চলাফেরা—সব-কিছুকে লাবণ্যমণ্ডিত করে। অামাদের চারপাশের নানা কৌতুহলের সঙ্গে এই লাবণ্যের সঙ্গতি রয়েছে। আমাদের সৌভাগ্যক্রমে আমাদের দৈনন্দিন জগৎ সাদামাঠা, সূক্ষ্ম ও ধৃষ্টতাহীন সৌন্দর্যে ভরা। সৌন্দর্য উপলব্ধির জন্য আমাদের নিজস্ব অনুভূতিশীল মনের উপর নির্ভর করতে হয়। তা অদৃশ্ব, কারণ তা আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য । যদি আমর বাইরের খোলসের মধ্য দিয়ে উকি দিতে পারি, তবে আমরা দেখতে পাব যে এই সাদামাঠা জগৎ এক অলৌকিক সৌন্দর্যের জগৎ । আমাদের ভালোবাসার শক্তির দ্বারা প্রবৃত্তিবশে আমরা এই সত্যকে উপলব্ধি করি । আর নবী এই শক্তির দ্বারা অাবিষ্কার করে যে, তাদের ভালোবাসা ও সহানুভূতির পাত্র তুচ্ছতার রুক্ষ ছদ্মবেশ সত্ত্বেও অনন্ত মূল্যে ভূষিত। যখন সাধারণ বস্তুতে নারীর ঔৎসুক্য বিনষ্ট হয়, তখন অবসর তার শূন্যতার দ্বারা নারীকে ভীত ক’রে তোলে। কাবণ তাদেব স্বাভাবিক ইন্দ্রিয়ানুভূতি অসাড় হয়ে যাওয়ার ফলে চাবপাশের পরিবেশে তাদের মনোযোগ তাকর্ষণকারী কোনো-কিছুর দেখা পাওয়া যায় না । সুতরাং সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্তে নয়, কেবল সময়কে ভরিয়ে তোলার জন্তে নারী নিজেকে অত্যন্ত ব্যস্ত রাখে । আমাদের প্রাত্যহিক জগৎ বাদ্যযন্ত্রের রীডের মতো, তার যথার্থ মূল্য তার মধ্যে নেই। কিন্তু যাদের ক্ষমতা ও মনোযোগের সুস্থিরতা আছে, তারা এই প্রাত্যহিক জগতের শূন্যতার মধ্য দিয়ে অনন্ত যে সংগীত বাজিয়ে চলেছেন, তা শুনতে পায়। কিন্তু নারী যখন বস্তুর মূল্যে বস্তুকে বিচারের অভ্যাস গড়ে তোলে, তখন প্রত্যাশা করা যায় যে নারী 2S 8૨